ফোরকান ইসলাম | বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা
বাবা নেই। সংসারে অভাব। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট ভাই-বোনদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখত সাদিয়া আক্তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। গত সোমবার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে একাদশ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
সাদিয়ার বাবা পান্নু মুসুল্লি কয়েক বছর আগে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তখন সাদিয়ার বয়স মাত্র ১১ বছর। চার ভাই-বোনের মধ্যে বড় হওয়ায় অল্প বয়সেই সংসারের বাস্তবতা বুঝতে হয় তাকে। বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া পড়াশোনার পাশাপাশি বেতাগী ফরাজী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করত বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের স্বপ্ন ছিল, একদিন সাদিয়া তাদের কষ্ট দূর করবে। কিন্তু হঠাৎ করেই থেমে গেল সেই স্বপ্ন।
সাদিয়ার মৃত্যুর পর শোকের পাশাপাশি নতুন সংকটে পড়ে পরিবারটি। পরিবারের দাবি, মরদেহ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের মোট ১০ হাজার ৫৪০ টাকা খরচ হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহ বরগুনায় নিতে অ্যাম্বুলেন্সে ৫ হাজার টাকা এবং ময়নাতদন্তের জন্য ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এর সঙ্গে আরও ৫০০ টাকা ও মরদেহ পলিথিনে মোড়ানোর জন্য ৪০ টাকা খরচ হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
যে পরিবারের কাছে ১০ হাজার টাকা জোগাড় করাই কঠিন, প্রিয় সন্তানকে হারানোর পর সেই পরিবারকেই অল্প সময়ের মধ্যে এই অর্থ জোগাড় করতে হয়েছে।
এখন প্রশ্ন—ময়নাতদন্ত ও মরদেহ পরিবহনের মতো আইনগত প্রক্রিয়ায় দরিদ্র পরিবারের আর্থিক দায় কতটুকু? নির্ধারিত সরকারি ফি থাকলে তা কত? আর কোথাও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হলে তার জবাবদিহি কোথায়?
সাদিয়াকে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। তবে তার মতো অসহায় পরিবারের কাছে মৃত্যুর পরও যেন অর্থের বোঝা নতুন কষ্টের কারণ না হয়—এ প্রশ্নের উত্তর এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই প্রত্যাশিত।