ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠিতে পেশাদার তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বরিশালের কাউনিয়া থানায় হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, সাংবাদিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্নমহল। অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।মিথ্যা মামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন— স্টার নিউজের স্টাফ রিপোর্টার আল-আমিন তালুকদার, দৈনিক আজকের পরিবর্তনের জেলা প্রতিনিধি ও রিপোর্টার্স ক্লাব ঝালকাঠির সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু (বাচ্চু হাওলাদার) দৈনিক আজকের পত্রিকার ঝালকাঠি প্রতিনিধি আরিফুর রহমান রায়হান।২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আল-আমিন তালুকদার জানান, মামলার এজাহারে ঘটনার যে সময় উল্লেখ করা হয়েছে (১৩ সেপ্টেম্বর), সে সময় তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।উপাধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু জানান, ওই দিন তিনি ঝালকাঠি শহরে সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি বরিশাল ছিলেন না এবংআরিফুর রহমান রায়হান বলেন, “১৩ সেপ্টেম্বর মামলার এজাহারে উল্লেখিত সময়ে আমি ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নদীভাঙন রোধের মানববন্ধনের সংবাদ সংগ্রহ ও পেশাগত কাজে ব্যস্ত ছিলাম।” তাঁরা প্রশ্ন রেখে বলেন, “আমরা ঘটনার দিন বরিশালেই ছিলাম না, তাহলে কীভাবে সেখানে মামলার আসামি হলাম? পুলিশ কোনো ধরনের প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এই মিথ্যা মামলাটি এজাহারভুক্ত করেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”সাংবাদিক নেতারা ও ভুক্তভোগীরা নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে মিথ্যা মামলা দাতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো নিরীহ মানুষকে এভাবে হয়রানির শিকার হতে না হয়।নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সত্য প্রকাশে বাধাগ্রস্ত করতে এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতেই একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এই ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করেছে। এই অপকর্মের পিছনে ঝালকাঠির কুখ্যাত হলুদ সাংবাদিক ও একাধিক মামলার আসামি মোল্লা শাওন জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এমন নগ্ন হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।অবিলম্বে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা হলে সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।ওই মামলা বাদী ঝালকাঠি সাহাবাংগল গ্রামের মৃত আবুল কালাম আজাদ এর পুত্র রাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ঝালকাঠির সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মোল্লা শাওন তাকে ভুলবাল বুঝিয়ে অপরিচিত ওই তিন সাংবাদিকের নাম এজাহারভুক্ত করিয়েছে। তিনি নিরপরাধ ওই তিন সাংবাদিকের মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি লিখিত হলফনামা দিবেন বলে জানান।ঝালকাঠির সাংবাদিক পরিচয়দানকারী সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওন বিস্ফোরকসহ দুটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নাই।বরিশালের পুলিশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে জানা যায় বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে দেখা হবে। নিরপরাধ কেহ মামলায় হয়রানি হবে না। নির্দোষী ব্যক্তিগণকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হবে।