1. admin@bishwamedia.com : Main :
  2. news@bishwamedia.com : Bishwa Media : Bishwa Media
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিতের আহ্বানে দৈনিক মাতৃজগতের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে দেশে ফেরায় প্রধানমন্ত্রীকে চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণির উষ্ণ শুভেচ্ছা বাঘাইছড়িতে সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৪ অসহায় পরিবারকে বিজিবির আর্থিক অনুদান ও সহায়তা প্রদান ঈদগাঁওয়ে ১০০ একরের মৎস্যঘেরে বিষপ্রয়োগ: সর্বস্বান্ত ৮ চাষি, ৯০ লাখ টাকার ক্ষতি বেতাগীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর দাঁত ভাঙার ঘটনায় পলাতক প্রধান আসামি ফয়সাল গ্রেপ্তার। রাষ্ট্রীয় পদক পিপিএম-সেবা পেলেন বিরুলিয়া-সাভারের নারী গোয়েন্দা কর্মকর্তা তুহিনা নাসরিন সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি, নানা আয়োজনে দৈনিক মাতৃজগতের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বরগুনায় নতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ বিশ্ব পর্যটন দিবস বরগুনায় বিষখালীর তীরে সবুজের ছায়ায় গড়ে উঠেছে সুরঞ্জনা ট্যুরিজম ইকোপার্ক শিবালয়ে সরকারি সড়কের গাছ কাটার অভিযোগ৪০–৪২টি গাছ উধাও, মূল্য ৭ লাখ টাকা তদন্তের আশ্বাস উপজেলা বন কর্মকর্তা।

বিশ্ব পর্যটন দিবস বরগুনায় বিষখালীর তীরে সবুজের ছায়ায় গড়ে উঠেছে সুরঞ্জনা ট্যুরিজম ইকোপার্ক

  • আপলোডের সময় : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এম মজিবুল হক কিসলু

বরগুনাসারা পৃথিবীর নামিদামি হাজারো রিসোর্টের ভিড়ে এটি হয়তো খুব বড় কোনো আয়োজন নয়। আছে চোখ ধাঁধানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বাহুল্য। কিন্তু প্রকৃতির অকৃত্রিম মায়া, পাখির কলতান, সবুজের সমারোহ আর নদীর বাতাস। আছে মানুষের ভালোবাসা।বরগুনা শহরের পশ্চিম প্রান্ত পেরিয়ে বিষখালী নদীর তীরে গেলেই চোখে পড়ে এমনই এক স্বপ্নের ঠিকানা সুরঞ্জনা ট্যুরিজম ইকোপার্ক। ব্যক্তি উদ্যোগে সাংবাদিক ও আইনজীবী সোহেল হাফিজের গড়ে তোলা এই প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটনকেন্দ্র এখন প্রতিদিনই টানছে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসা অসংখ্য মানুষ।আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। আর এই দিনে বরগুনার মাটিতে সুরঞ্জনার গল্পটি যেন প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা আর মানুষের চাহিদার কাছে একজন মানুষের নীরব আত্মসমর্পণের গল্প।সাংবাদিকতা ও আইন পেশার বাইরে অন্য এক স্বপ্নসোহেল হাফিজ পেশায় সাংবাদিক ও আইনজীবী। মানুষের অধিকার, সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। চাইলে নিজের পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেই স্বচ্ছন্দে থাকতে পারতেন। কিন্তু প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং মানুষের জন্য একটু ভিন্ন কিছু করার আকাঙ্ক্ষা তাঁকে টেনে নেয় বিষখালীর তীরে।সুরঞ্জনা ট্যুরিজম ইকোপার্কের শুরু ২০২০ সালে। প্রথমে ছিল ছোট্ট একটি উদ্যোগ। এরপর ধীরে ধীরে মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে। পরিবার নিয়ে মানুষ আসতে শুরু করে। কেউ আসে একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে, কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে, কেউ সন্তানদের নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে।মানুষের এই ভালোবাসাই সোহেল হাফিজকে আরও বেশি করে সুরঞ্জনার সঙ্গে বেঁধে ফেলেছে।সোহেল হাফিজ বলেন,আমি সাংবাদিকতা করি, আইন পেশার সঙ্গেও যুক্ত। তারপরও সবকিছু ছেড়ে এখানে পড়ে আছি। কোনো ব্যবসায়িক মোহ থেকে নয়, মানুষের ভালোবাসার কারণে। যখন দেখি একটি পরিবার এখানে এসে কয়েক ঘণ্টা প্রকৃতির মধ্যে থেকে প্রশান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছে, শিশুরা পাখি দেখছে, গাছ চিনছে, নদীর বাতাস উপভোগ করছে, পদ্ম ফুল দুলছে, তখন মনে হয়, আমার এই শ্রম বৃথা যায়নি।তিনি বলেন, সুরঞ্জনা আমার কাছে শুধু একটি রিসোর্ট নয়। এটি প্রকৃতির কাছে মানুষের ফিরে আসার একটি ছোট্ট দরজা। আমি চাই, মানুষ এখানে এসে শুধু আনন্দ নিয়ে ফিরে যাবে না। প্রকৃতিকে ভালোবাসার একটি শিক্ষা নিয়েও ফিরবে।পাখিদের জন্য হাজারো গাছসুরঞ্জনার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য তার প্রকৃতিনির্ভর পরিবেশ। গোল, হোগলা, নলখাগড়া আর কাশবনের মাঝে পাখ-পাখালির কোলাহল। সবুজের বুক চিরে বয়ে যাওয়া বাতাস আর বিষখালী নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি মিলে তৈরি করেছে মনোরম এক আবহ। এখানে রোপণ করা হয়েছে প্রায় ৫০ প্রজাতির সহস্রাধিক দেশীয় ফলদ বৃক্ষ। শুধু মানুষের জন্য নয়, পাখিদের জন্যও। গাছগুলো বড় হচ্ছে। গাছে ফল ধরছে। আর সেই ফল খেতে নানা প্রজাতির পাখি এসে বসছে। পাখির ডাক আর পাতার মর্মর শব্দে অনেক সময় মনে হয়, এটি কোনো কৃত্রিম পর্যটনকেন্দ্র নয়, প্রকৃতির নিজেরই একটি রাজ্য।সুরঞ্জনায় রয়েছে পাখির অভয়াশ্রম। পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে বৃক্ষ পুনর্বাসন কেন্দ্র। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও গভীর করাই যার মূল উদ্দেশ্য।নদীর তীরে রাত কাটানোর সুযোগশুধু দিনের ভ্রমণ নয়, প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে রাতও কাটানোর ব্যবস্থা রয়েছে সুরঞ্জনায়।এখানে রয়েছে এসি ও নন-এসি মিলিয়ে ৬টি কটেজ। পরিবার নিয়ে থাকা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা শহরের ব্যস্ততা থেকে এক রাতের জন্য নিজেকে প্রকৃতির কাছে সমর্পণ। সবকিছুরই সুযোগ রয়েছে এখানে। পর্যটকদের থাকা-খাওয়া ও নিরাপত্তার জন্যও রয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের কাছে সুরঞ্জনা হয়ে উঠছে স্বস্তি ও নির্ভরতার একটি জায়গা।প্রতিদিনই মানুষের ভিড়সুরঞ্জনার সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়তো কোনো সাইনবোর্ডে লেখা নেই। এর পরিচয় তৈরি হয়েছে মানুষের উপস্থিতিতে। প্রতিদিনই দূরদূরন্ত থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। কেউ নদীর পাড়ে বসছেন, কেউ সবুজের মধ্যে হাঁটছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ শিশুদের নিয়ে ঘুরছেন। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও মানুষ খুঁজে নিচ্ছেন একটু প্রশান্তি। আর ছুটির দিনগুলোতে বিশেষ করে দুটি ঈদ পূজায় মানুষের ভিড় আরও বেড়ে যায়।বরগুনা শহরের একেবারে পশ্চিম প্রান্তে বিষখালী নদীর তীরে অবস্থান হওয়ায় সুরঞ্জনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও আলাদা। নদীর পশ্চিম পাড়ের দৃশ্য, পরন্ত বিকেলের মায়াবী আলো, বাতাসে দুলতে থাকা কাশবন, পদ্ম আর গোধূলির আকাশ সব মিলিয়ে এখানে তৈরি হয় এক অন্যরকম অনুভূতি।বিনোদনের সঙ্গে আয়োজনওসুরঞ্জনায় রয়েছে, গাঙচিল মিলনায়তন। মিটিং, ট্রেনিং, সেমিনার, বিয়ে, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, পুনর্মিলনীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজনের জন্য এটি ব্যবহার করা যায়। সত্যি বলতে কি সুরঞ্জনায় একবার যারা আসেন তারা বার বার সময় পেলেই চলে আসেন। বরগুনা শহরে একমাত্র বিনোদন, ঘরোয়া সভা, মিটিং, বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য এটি মনোরম পরিবেশ।একদিকে প্রকৃতির নির্জনতা, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় আয়োজনের সুবিধা। দুটোকে পাশাপাশি রাখার চেষ্টা রয়েছে সুরঞ্জনায়।একটি মানুষের স্বপ্ন, মানুষের জন্যসোহেল হাফিজের স্বপ্নটা শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র তৈরির নয়। তিনি চান, বরগুনার পর্যটন সম্ভাবনাকে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে আরও এগিয়ে নিতে। তাঁর কথায়, “আমাদের বরগুনার প্রকৃতি কারও চেয়ে কম নয়। আমাদের নদী আছে, সমুদ্র আছে, বন আছে, পাখি আছে, জীববৈচিত্র্য আছে। দরকার শুধু প্রকৃতিকে নষ্ট না করে তাকে ভালোবেসে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা। সুরঞ্জনা সেই বড় স্বপ্নেরই ছোট্ট একটি অংশ।বিষখালীর তীরে দাঁড়িয়ে হয়তো এই স্বপ্নের পরিধি এখনো ছোট। কিন্তু প্রতিদিন যখন অসংখ্য মানুষ পরিবার নিয়ে এখানে আসেন, শিশুরা আনন্দে ছুটে বেড়ায়, পাখিরা গাছের ডালে ফিরে আসে। তখন সুরঞ্জনা আর শুধু একজন উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ থাকে না। এটি হয়ে ওঠে মানুষেরও।বিশ্ব পর্যটন দিবসে তাই সুরঞ্জনার গল্প শুধু একটি ইকোপার্কের গল্প নয়। এটি প্রকৃতিকে ভালোবাসার গল্প। মানুষের জন্য কিছু করার গল্প। আর একজন সাংবাদিক আইনজীবীর পেশাগত জীবনের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজের মাটির জন্য একটি স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার গল্প। সুরঞ্জনা, বিষখালীর তীরে প্রকৃতির সেই ছোট্ট পাঠশালা, যেখানে মানুষ বেড়াতে আসে, আর প্রকৃতি তাদের কিছুটা শান্তি দিয়ে বিদায় করে।

এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ...