শেফাইল উদ্দিন, কক্সবাজার
কক্সবাজারের চকরিয়ায় কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিসান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই নারীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।মঙ্গলবার রাতে নিহত জিসানের বড় ভাই কাইছার হামিদ বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় মামলাটি করেন।মামলায় রাজিয়া সুলতানাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন—সবুজবাগ এলাকার কবির টাওয়ারের মালিক জাকারিয়া, তাঁর ভাই মিজান, মিনহাজ ও নাজেম উদ্দিন, নাজেম উদ্দিনের স্ত্রী এবং তাঁদের নিকটাত্মীয় তারেকুল ইসলাম।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের মধ্যে জাকারিয়া, মিজান, মিনহাজ ও নাজেম উদ্দিন চার ভাই। তারা সবাই দুবাইপ্রবাসী। ঘটনার দিন নাজেম উদ্দিন ছাড়া বাকি তিন ভাই দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।মামলার বাদী কাইছার হামিদ বলেন, ‘এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে জিসানকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। আমরা এজাহারে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করেছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং আমার ভাই হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’উল্লেখ্য, সোমবার ভোরে কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিসানকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী-কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।নিহতের পরিবারের দাবি, অপহরণের পর জিসানকে সবুজবাগ এলাকার কবির টাওয়ারে নিয়ে হত্যা করা হয়। তবে কবির টাওয়ারে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে ভবনটির সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছে পুলিশ।চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘দুই নারীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা রুজু হয়েছে। জিসান হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যাদের থানায় আনা হয়েছিল, এজাহারে তাঁদের নাম না থাকায় রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা চলছে।’