।নূরে আলম (শাহারিয়ার) “বিশ্ব মিডিয়া” ০৩ অক্টোবর ২০২৬মুরাদনগর (কুমিল্লা):
কুমিল্লার বাঙ্গরা স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যসহ অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে হামলাকারীরা বাজারের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় নিজেদের প্রভাব বজায় রাখা ও পুরোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন সকালে স্থানীয় বাজারে উভয় পক্ষের লোকজন মুখোমুখি হলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে এক ইউপি সদস্য এবং আরও একজন স্থানীয় বাসিন্দা গুরুতর আহত হন।সংঘর্ষের সময় একপক্ষ অপরপক্ষের ব্যবসায়িক লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বাজারে হামলা চালায়। এতে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫টি দোকানপাটে হামলা, আসবাবপত্র ও গ্লাস ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অতর্কিত এই তাণ্ডবে সাধারণ ব্যবসায়ী ও কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাজার জনশূন্য হয়ে পড়ে।আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তারা জানান, রাজনৈতিক বা সামাজিক আধিপত্যের জেরে বারবার স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে। এ ধরনের সহিংসতা এলাকায় স্থায়ী অর্থনৈতিক ক্ষতি ও চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।সংঘর্ষের খবর পেয়ে বাঙ্গরা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে টিয়ারশেল ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।এ বিষয়ে বাঙ্গরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “সংঘাতের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই সহিংসতার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।