কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বালুর নিচে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মিনি ট্রাকসহ দুইজনকে আটক করেছে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পুলিশ চেকপোস্টের সামনে অভিযান চালিয়ে এসব মদ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ জানতে পারে, বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদের একটি চালান মিনি ট্রাকে করে সিলেটের দিকে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি জানার পর পুলিশ চেকপোস্ট এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন মিনি ট্রাকটি চেকপোস্ট অতিক্রম করার সময় এএসআই আব্দুল কালামের নেতৃত্বে পুলিশ সেটি আটক করে।
পুলিশ জানায়, মিনি ট্রাকটিতে বালু বোঝাই করা ছিল। তবে বালুর নিচে বিশেষ কৌশলে বস্তা ও কার্টুনে করে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ। ট্রাকটি কোম্পানীগঞ্জ থানার কম্পাউন্ডে এনে বালু সরিয়ে তল্লাশি চালালে বিপুল পরিমাণ মদের চালান বেরিয়ে আসে।পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা মদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৪৮১ বোতল। এসব মদের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৩ লাখ টাকা। এ ছাড়া মদ পরিবহনে ব্যবহৃত মিনি ট্রাকটির আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।এ ঘটনায় মিনি ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে। আটক দুজন হলেন—নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা কামাল মিয়ার ছেলে মো. কামরুল হোসেন (৩০) এবং সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তারের ছেলে রুহুল আমিন (৩০)।কোম্পানীগঞ্জ থানার এএসআই আব্দুল কালাম বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদের একটি চালান এ সড়ক দিয়ে পার হতে পারে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হয়। পরে ওসি স্যার ট্রাকটি আটক করার অনুমতি দেন এবং প্রয়োজনীয় ফোর্স পাঠান। চেকপোস্ট এলাকায় ট্রাকটি আটক করে তল্লাশি চালালে বালুর নিচে লুকানো মদের চালান পাওয়া যায়।”কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উছমান গনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে এই চক্রটিকে শনাক্ত ও আটকের জন্য সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা কাজ করছিলেন। আজ দুপুরে থানা-সংলগ্ন মহাসড়কের চেকপোস্ট অতিক্রমের সময় মিনি ট্রাকটি আটক করা হয়। পরে তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে।”পুলিশের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে ভারতীয় মাদক দেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে একটি চক্র। এসব চালান প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সীমান্ত ও মহাসড়কগুলোতে নজরদারি জোরদার করেছে।আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।