বিশ্ব মিডিয়া ডেস্ক
ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসক দম্পতির ৮ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থতার শুরু থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার অবস্থার গুরুতর অবনতি হচ্ছে—এমন স্পষ্ট কোনো লক্ষণ বুঝতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই শিশুটির মৃত্যু হয়।নিহত শিশুর নাম ফামইয়া মাশনুর রুমাইসা। সে রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী শাখার ইংলিশ ভার্সনের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে ফামইয়ার জ্বর জ্বর ভাব শুরু হয়। পরদিন জ্বর বেড়ে গেলে তাকে পরীক্ষা করানো হয় এবং ৩০ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। বাসায় চিকিৎসা ও স্যালাইনের ব্যবস্থা করা হয়।১ অক্টোবর হঠাৎ ফামইয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। খিঁচুনি শুরু হলে তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (PICU) না থাকায় দ্রুত অন্য হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে স্কয়ার হাসপাতালে PICU পাওয়া গেলেও সেখানে পৌঁছানোর আগেই তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। হাসপাতালে নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়।ফামইয়ার বাবা মুহাম্মদ ওমর ফারুক রায়হান জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞ। মা ফারজানা সুলতানা একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ।চিকিৎসক বাবা জানান, ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পরও মেয়ের মধ্যে পেটে তীব্র ব্যথা, রক্তপাত বা অন্যান্য গুরুতর সতর্কসংকেত দেখা যায়নি।
শেষ মুহূর্তে নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়। তার আগ পর্যন্ত সে পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলেছে এবং খাবারও খেয়েছে।ফামইয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছোট বোনও বুঝতে পারছে না, তার প্রিয় বোন কোথায় চলে গেছে।ফামইয়ার বাবা মনে করেন, ডেঙ্গুর মৌসুমে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত PICU সুবিধা, সরকারি পর্যায়ে দ্রুত চিকিৎসা এবং এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ আরও জোরদার করা জরুরি।
তাঁর ভাষ্য, বাসার আশপাশে ময়লা ও জমে থাকা পানি থাকলেও সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার কার্যকর ব্যবস্থা নেই।চিকিৎসক পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও ডেঙ্গুর এই আকস্মিক পরিণতি তাঁদের জন্য ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। একটি ছোট মশার কামড় যে এত দ্রুত একটি পরিবারের স্বপ্ন ও আনন্দকে থামিয়ে দিতে পারে—ফামইয়ার মৃত্যু সেই নির্মম বাস্তবতাই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশ্ব মিডিয়া | ঢাকা |