1. admin@bishwamedia.com : Main :
  2. news@bishwamedia.com : Bishwa Media : Bishwa Media
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কসবায় জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির নেপথ্যে বিশাল সিন্ডিকেট: ৩ ভুয়া আবেদনের সূত্র ধরে সাজা, উন্মোচিত বহিরাগতদের ভোটার বানানোর চক্রান্ত। জেলা পর্যায়ে কাচালং বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর ঈর্ষণীয় সাফল্য বরগুনায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৪ মাসের কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে ডা.মাহমুদা মিতুর মত বিনিময় সভা। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে মধুমতীতে নৌকা বাইচ ও মাদকবিরোধী কনসার্ট শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতীক ওয়ালিউল্লাহ টিটু: লক্ষ্মীপুরে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু স্ত্রীর চিকিৎসা করতে গিয়ে ১৮ লাখ টাকার ঋণ: মানবিক সহায়তার আকুতি ঈদগাঁওর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ক্বারী সিরাজের বরগুনায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

কসবায় জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির নেপথ্যে বিশাল সিন্ডিকেট: ৩ ভুয়া আবেদনের সূত্র ধরে সাজা, উন্মোচিত বহিরাগতদের ভোটার বানানোর চক্রান্ত।

  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভূয়া তথ্যে ৩টি ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করার অপরাধে মো. আবুল কালাম (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, এই সাজার সূত্র ধরে উন্মোচিত হয়েছে কসবা জুড়ে বিস্তৃত একটি শক্তিশালী জালিয়াত সিন্ডিকেটের তথ্য। চক্রটি ভুয়া জন্ম সনদ তৈরি করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বহিরাগত ও অস্তিত্বহীন ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) প্রদান এবং ভোটার তালিকায় নাম ওঠানোর কারবারে লিপ্ত ছিল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির। দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম শাহপুর গ্রামের তোরাফ আলীর ছেলে।

যেভাবে উন্মোচিত হয় জালিয়াতি:
ইউনিয়ন পরিষদ ও দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মো. আবুল কালাম সেন্ট্রাল ডাটাবেজের অনলাইন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন পোর্টালের (BDRIS) মাধ্যমে এক স্থানীয় ব্যক্তির সন্তান পরিচয়ে একটি ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম নিবন্ধনের জন্য তিনটি পৃথক আবেদন জমা দেন। খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান ডিজিটাল আবেদনপত্র ও যুক্ত করা নথিপত্র মাঠপর্যায়ে যাচাই করতে গিয়ে অসঙ্গতি দেখতে পান। তদন্তে উঠে আসে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো ছেলে সন্তান নেই এবং আবেদনে উল্লেখিত নামগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক। অসত্য নাম ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্তির চক্রান্ত বুঝতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি অবিলম্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) অবহিত করেন।

অভিযোগ পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির তাৎক্ষণিকভাবে খাড়েরা ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে নথিপত্র ও ডিজিটাল রেকর্ড খতিয়ে দেখেন। জেরার মুখে আবুল কালাম অসত্য তথ্য সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করলে মোবাইল কোর্ট আইনের আওতায় তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

কম্পিউটার দোকান ও দালালি সিন্ডিকেটের চাঞ্চল্যকর তথ্য:
সাজার ঘটনার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় দায়িত্বশীল সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা কার্যালয় এবং স্থানীয় বেশ কয়েকটি কম্পিউটারের দোকানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তিনি মূল চক্রের একজন মাঠপর্যায়ের “মিডলম্যান” বা দালাল হিসেবে কাজ করতেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়:

  • মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন: এলাকার কিছু অসাধু কম্পিউটার ব্যবসায়ী ও দালাল চক্রের যোগসাজশে ভুয়া জন্ম সনদ বানিয়ে দেওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।
  • বহিরাগতদের ভোটার বানানোর কৌশল: এই চক্রটির প্রধান লক্ষ্য ছিল ভুয়া জন্ম সনদকে মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নতুন ভোটার বানানো বা NID সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা। কসবা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বসবাস করে না বা বাস্তবে যাদের কোনো অস্তিত্ব নেই, এমন ব্যক্তিদের ভুয়া অভিভাবক বানিয়ে ভোটার করার চুক্তি করত তারা।
  • নেটওয়ার্ক বিস্তার: খাড়েরা ইউনিয়ন ছাড়িয়ে আশপাশের একাধিক ইউনিয়ন এবং পৌরসভা এলাকা পর্যন্ত এই জালিয়াতি সিন্ডিকেটের জাল ছড়িয়ে রয়েছে।
    প্রশাসনের কঠোর হুশিয়ারি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা:

ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ (BDRIS) জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের সাথে সরাসরি যুক্ত। ভুয়া তথ্য দিয়ে ডাটাবেজ কলঙ্কিত করা বা বহিরাগতদের অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।

একই সাথে জানানো হয়, শুধু আবেদনকারী বা মধ্যস্বত্বভোগী নয়—এই জালিয়াতির সাথে জড়িত অসাধু কম্পিউটার দোকানের মালিক, দালাল ও নেপথ্যের মদদদাতাদের চিহ্নিত করতে বিশেষ তদন্ত ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ...