সালাউদ্দীন শাহিন, বাঘাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ
পাহাড়ে বেজে উঠেছে শারদীয় উৎসবের আগমনী সুর। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে নির্বিঘ্ন, উৎসবমুখর ও শতভাগ নিরাপদ করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তারই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সভা।অদ্য ১২ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখ, সোমবার মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি) সদর দপ্তরে এই বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মারিশ্যা জোনের সুযোগ্য, চৌকস ও মানবিক জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসসি, এডি।সভাকে ঘিরে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, কীভাবে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে একজন পূজারী ও দর্শনার্থী নির্ভয়ে অঞ্জলি দিতে পারবেন, কীভাবে গুজব ও অপপ্রচারের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া যায়, তা নিয়ে চলে খোলামেলা ও ফলপ্রসূ আলোচনা।এই গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভায় প্রশাসনের প্রায় সকল স্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বাঘাইছড়ি এর প্রতিনিধি, সহকারী পরিচালক মারিশ্যা আনসার ব্যাটালিয়ন ৩৭ বিএন বাঘাইছড়ির মোঃ মামুন হাওলাদার, বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এর প্রতিনিধি, আবাসিক প্রকৌশলী, বিদ্যুৎ বিভাগ, বাঘাইছড়ি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা, বাঘাইছড়ি।এছাড়াও মারিশ্যা জোনের ভারপ্রাপ্ত অপস্ অফিসার চৌকস অফিসার মেজর অমিত কুমার সাহা, এএমসি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি-সম্পাদক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সভায় পূজা চলাকালীন সময়ে পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার, ২৪ ঘণ্টা যৌথ টহল, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখার বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।আলোচনা শেষে সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করে মারিশ্যা জোনের পক্ষ থেকে বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের নিকট শারদীয় শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন জোন কমান্ডার। এসময় তিনি পূজা কমিটির সদস্যদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে বিজিবি সর্বদা তাদের পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন। জোন কমান্ডারের এই মানবিক উদ্যোগে পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।পরিশেষে জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসসি, এডি বলেন, এই অঞ্চলের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের স্বার্থেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সমন্বিত পরিকল্পনা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে যে কোনো চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সবসময়ই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভ্যন্তরীণ আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করেও বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতির সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পূজা চলাকালীন সময়ে যে কোনো ধরনের সহিংসতা, নাশকতা, গুজব বা বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রতিরোধে আমরা বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে নিবিড় সমন্বয়ে কাজ করবো। তথ্য আদান-প্রদান, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এবং যৌথ টহল কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পরিশেষে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাঘাইছড়ি উপজেলায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হবে এই প্রত্যাশা রাখি।