1. admin@bishwamedia.com : Main :
  2. news@bishwamedia.com : Bishwa Media : Bishwa Media
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মধুখালীতে বেঙ্গল ইসলামী লাইফের মৃত্যুদাবীর চেক হস্তান্তর জাতীয় সাপ্তাহিক বিশ্ব মিডিয়ায় রিপোর্টার সুলেখা কে পরিচয়পত্র প্রদান কক্সবাজারে আড়ং ও স্বপ্ন সুপার শপে অভিযান, জরিমানা ১০ হাজার টাকা কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নতুন ভিসি প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ মারিশ্যায় বিজিবির অভিযানে ৩৫ হাজার টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের স্পেশাল ড্রাইভ: নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাদ্দাম গ্রেপ্তার সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চলের টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ভুক্তভোগী ডিলারদের তদন্তের দাবি বন্দরে নানা আয়োজনে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপন ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ বিষয় অবহিতকরণ নিয়ে চন্দ্রগঞ্জে উপজেলা প্রেস কনফারেন্স বাঘাইছড়িতে শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে বিজিবি’র নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ছক: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনে মারিশ্যা জোনের মাস্টারপ্ল্যান

সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চলের টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ভুক্তভোগী ডিলারদের তদন্তের দাবি

  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

সিলেট অফিস ::

সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বরাদ্দের ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) উত্তোলন করতে গিয়ে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে সংস্থাটির শেরপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে। ডিলার নিজে গিয়ে ডিও উত্তোলন করলে ৫০০ টাকা এবং প্রতিনিধির মাধ্যমে উত্তোলন করলে ১ হাজার টাকা করে দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন ডিলাররা। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় ডিলারদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং পণ্যবাহী চারটি গাড়ি আটকে রাখারও অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় টিসিবির চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ছাতক উপজেলার ডিলাররা। অভিযোগটি জেলা প্রশাসক,সুনামগঞ্জের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এতে আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। ডিলারদের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টিসিবির শেরপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীনে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার ডিলাররা নিয়মিত পণ্য উত্তোলন করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতি মাসে বরাদ্দের ডিও উত্তোলনের সময় ডিলারদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ দাবি করা হয়। ডিলার নিজে গেলে ডিওপ্রতি ৫০০ টাকা এবং প্রতিনিধির মাধ্যমে গেলে ১ হাজার টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, ছাতক উপজেলায় টিসিবির পণ্য বিতরণের জন্য ১৬টি স্পট রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে চুক্তি নবায়ন করা ডিলার একজন এবং ২০২৬ সালে চুক্তি নবায়ন করা ডিলার সাতজন। এসব ডিলারের মধ্যে সাতজনের চুক্তির মেয়াদ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ শেষ হওয়ার কথা। এ পরিস্থিতিতে আগস্ট মাসের বরাদ্দের ডিও পেতে বিলম্ব হওয়ায় পণ্য সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমেও জটিলতা তৈরি হয়।লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আগস্ট মাসের টিসিবি পণ্য ভোক্তাদের মধ্যে বিতরণের জন্য ডিলাররা ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় অতিরিক্ত স্পটের পণ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে চারটি গাড়িসহ নিজেদের প্রতিনিধি শেরপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠান তারা। ডিলারদের অভিযোগ, ওই সময় অফিসপ্রধান প্রতি ডিওর বিপরীতে ১ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অফিসপ্রধান ও কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একই সঙ্গে পণ্যবাহী গাড়িগুলো আটকে রাখা হয়।অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করলে ওই দিনের ঘটনার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। ফলে অভিযোগের তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার দাবি উঠেছে। ঘটনার পরদিন, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ছাতক উপজেলার টিসিবি ডিলাররা পণ্য বিক্রি বন্ধ রেখে শেরপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে যান। অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে অফিসপ্রধান তাদের নিজের কক্ষে নিয়ে কোনো বিষয়ে আলোচনার আগেই একটি কাগজে স্বাক্ষর নেন। পরে ওই কাগজের ভিত্তিতে তাদের হাতে কারণ দর্শানোর নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময়ও তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ডিলাররা।টিসিবির মতো সরকারি সংস্থার পণ্য নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। সেখানে পণ্য বরাদ্দের ডিও সংগ্রহের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ উঠলে তা শুধু ডিলারদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নয়, সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়ে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা সরকারি পণ্য বিতরণ ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।ডিলারদের দাবি,শেরপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীন অন্যান্য জেলার ডিলারদের কাছ থেকেও এ ধরনের আচরণের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তারা অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট দিনের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।তদন্তের দাবি-অভিযোগের বিষয়ে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। ডিও উত্তোলনের জন্য সরকারি কোনো নির্ধারিত ফি রয়েছে কি না, থাকলে তার পরিমাণ কত এবং অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারি রসিদ দেওয়া হয় কি না-এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডিলারদের অভিযোগে উল্লেখিত ৩১ আগস্টের সিসিটিভি ফুটেজ, গাড়ি আটকে রাখার ঘটনা, ১ সেপ্টেম্বর দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট ডিও বিতরণের নথিপত্র পরীক্ষা করলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। টিসিবির শেরপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য বক্তব্য পেলে গুরুত্বের সহিত প্রকাশ করা হবে। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণই এখন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ডিলাররা।

এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ...