মো. সফর মিয়া, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি,
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মৃত নাছির উদ্দীন মাস্টারের সম্পত্তির ওয়ারিশ সনদ থেকে দুই মেয়ের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লাউর ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্যের (মেম্বার) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেছেন পরিবারের এক সদস্য। তাঁর দাবি, বিরোধপূর্ণ ১২ শতক জমির দলিল নিবন্ধন বন্ধ রাখতে সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত আবেদন করার পরও সেই জমিটি নিবন্ধন করা হয়েছে।পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা নাছির উদ্দীন মাস্টারের দুই পক্ষের মোট নয়জন ওয়ারিশ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম পক্ষের দুই মেয়ে সালেমা বেগম ও বুলু খাতুনের নাম বাদ দিয়ে সাতজনের নামে ওয়ারিশ সনদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর ছেলে মো. বদিউল আলম।বদিউল আলমের অভিযোগ, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মামুন মিয়া (চানমনি) অর্থের বিনিময়ে ওই ওয়ারিশ সনদ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন। পরে সেই সনদ ব্যবহার করে বিরোধপূর্ণ জমির দলিল নিবন্ধন করা হয়।

নবীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দলিলটির নিবন্ধন নম্বর ১৩৮৮০। বদিউল আলমের দাবি, গত ৭ অক্টোবর দলিলটি নিবন্ধন করা হয়েছে।বদিউল আলম জানান, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ৯ ফেব্রুয়ারি নবীনগর সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত আবেদন করেন তাঁরা। আবেদনে আহাম্মদপুর মৌজার জে.এল. নম্বর ১৬১, বিএস খতিয়ান নম্বর ৮০০ এবং ১৪৪৬ ও ১৪৪৭ নম্বর দাগের মোট ১২ শতক জমির নতুন দলিল নিবন্ধন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়। আবেদনে জমিটির রেকর্ডীয় মালিক ও দখলদার হিসেবে নাছির উদ্দীন মাস্টারের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। পরিবারের সব ওয়ারিশকে না জানিয়ে জমি পরিমাপ করে দ্বিতীয় পক্ষের সদস্যরা তা দখলে রেখেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।দলিল নিবন্ধনের খবর পাওয়ার পর সাব-রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানান বদিউল আলম। তাঁর ভাষ্য, তখন তাঁকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।

তবে লিখিত আপত্তি দেওয়ার পরও কীভাবে দলিলটি নিবন্ধিত হলো, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। বাদ পড়া দুই ওয়ারিশের স্বজনেরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ওয়ারিশ সনদ প্রদান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লাউর ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি দিই নাই ভাই, আমি এসব দিই নাই। এগুলি ফাও (ভিত্তিহীন)। যারা নিয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসা করেন।’তবে ওয়ার্ড সদস্য মামুন মিয়া (চানমনি) দাবি করেন, নিয়ম মেনেই ওয়ারিশ সনদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সাতজন ওয়ারিশের কাগজপত্র নিয়ে আসার পর তিনি সনদে স্বাক্ষর করেছেন। দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তিন ভাই, তিন বোন ও মা মিলিয়ে সাতজনের নাম রয়েছে। চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমও সঠিকভাবেই স্বাক্ষর করেছেন বলে দাবি তাঁর।এদিকে নাসির উদ্দিন মাস্টারের দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে ইয়াসমিন বেগম চেয়ারম্যান-মেম্বারের পক্ষে মত দিয়ে বলেন, ‘আমার বাবার দুই সংসারে তিন জন তিন জন করে ছয় জন সন্তান এবং আমার মা—মোট সাত জন। নাসির উদ্দিন মাস্টারের মোট ওয়ারিশ সাত জনই। চেয়ারম্যান এবং মেম্বারের কোনো দোষ নেই, তাঁরা সঠিক ওয়ারিশই দিয়েছেন।’লিখিত আপত্তির পরও দলিল নিবন্ধনের বিষয়ে জানতে নবীনগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার এস এম আবু মোছার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ওয়ারিশ সনদের বিষয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।