কামাল চৌধুরী :-
আজ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেফতার, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীসহ দেশজুড়ে সাড়াশি অভিযান শুরু করবে। একই সাথে চলবে ডেভিল হান্ট পেইজ-২ ও যৌথ বাহিনীর অভিযান। এদিকে অন্তবর্তিকালিন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস লুন্ঠন কৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলাবারুদ উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশজুড়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ড মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এসব সন্ত্রাসীদের হাতে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতা এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও হতাহত হচ্ছে। এ-সব সার্বিক বিষয় নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়কে ভাবিত করছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ছোট বড় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানাবিধ নেতিবাচক অভিযোগ করে চলেছেন। পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অনেক প্রার্থী তাদের নিরাপত্তা নিয়েও শংনকা প্রকাশ করেছেন। অনেকে ইতোমধ্যে তাদের নিরাপত্তার জন্য গানম্যানও পেয়েছেন। গত ২০ জানুয়ারী নির্বাচন কমিশন নতুন করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাক্তার শফিকুর রহমান সহ ৭ জনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি লিখেছেন।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন সচিব বলছেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার শংকা এখনো নাই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে।
পাশাপাশি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো অবনতির আশংকায় জনমনে আতংক সৃষ্টি হয়েছে।
ডিএমপি’র ও পুলিশ হেডকোয়ার্টারের একাধিক সূত্র জানায়, রাজধানী সহ দেশজুড়ে সাড়াশি অভিযানে আজ মধ্য রাত থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিরতিহীন অভিযান শুরু করবে। পাশাপাশি চলমান অন্যান্য অভিযানও চলবে। এই অভিযান আজ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়েও চলবে।
সূত্র জানায়, স্হানীয় এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রধারীদের তালিকা রয়েছে। এসব তালিকা নিয়েই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে জানাগেছে, আজ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারনা শুরুর সাথে সাথে এক শ্রেণীর সন্ত্রাসী গ্রুপ পক্ষে -বিপক্ষে মাঠে নামার সংবাদ তাদের কাছে রয়েছে। এসব বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা সমূহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষের নিকট নিয়মতান্ত্রিক ভাবে অবহিত করা হয়েছে।
ডিএমপির গোয়েন্দা ইউনিটের বিশেষ একটি সূত্র জানায়, তারা শতভাগ শক্তি নিয়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেফতার মাঠে রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় কোনো মব সন্ত্রাসীকেও ছাড় দেওয়া হবেনা। আইনের দৃষ্টিতে সকলেই অপরাধী। তাই যে কোনো ধরনের অপরাধ অপকর্মের সাথে জড়িত থাকলেই তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার সূত্র জানায়, এ লক্ষ্যে সকল জেলা, মেট্রোপলিটন পুলিশ, র্যাব বাহিনী সহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি এরইমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস এর নির্দেশনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনে অনেকটা মনোবল বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও সূত্র জানায়।