নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা। ।
রাজধানীর বনানীতে চলন্ত গাড়ীতে প্রেমীকাকে বেধড়কভাবে পেটালেন প্রেমিক। গত ৫ এপ্রিল রাতে অভিজাত এলাকা বনানীতে চলন্ত গাড়ির ভেতরে নিজ প্রেমিকের হাতে নৃশংস হামলার শিকার হন ফাহমিদা আফরিন জুই । দীর্ঘদিনের সম্পর্কের এমন করুণ পরিণতিতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন এই তরুণী। তবে ঘটনার ভয়াবহতা কেবল শারীরিক নির্যাতনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী সিসা লাউঞ্জ ব্যবসায়ী রাইসুল ইসলাম জুয়েলের হাত থেকে বাঁচতে এখন খোদ ভুক্তভোগীকেই অভিযোগ তুলে নিতে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে।চলন্ত গাড়িতে নৃশংসতা অমানবিকতার এক বাস্তব উদাহরন।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বনানীতে চলাচলের সময় গাড়ির ভেতরে একাধিক অনৈতিক সম্পর্কের জের ধরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্ত প্রেমিক জুঁইয়ের ওপর চড়াও হন। এলোপাতাড়ি মারধরে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হন তিনি। ঘটনার পরপরই বনানী থানার পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা ও ফরেনসিক রিপোর্ট সংগ্রহ করেন ভুক্তভোগী নারী। পরে ৭ তারিখ রাতে তিনি বনানী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযুক্তের দম্ভ ও অবৈধ সিসা ব্যবসায়ের দাপটে সাংবাদিকদেরকেও হুমকি প্রদান করেছেন।অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি বনানীতে ‘সিসা লাউঞ্জ’ ব্যবসার আড়ালে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। ঘটনার পর গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপরও চড়াও হন তিনি। অভিযুক্ত ব্যক্তি দাম্ভিকতার সাথে দাবি করেন, তার এই অবৈধ ব্যবসাকে তিনি উচ্চ আদালত থেকে ‘বৈধ’ করে এনেছেন। কেবল সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করাই নয়, বরং আইন ও প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করার এক চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেন তিনি।গণমাধ্যমকর্মীদের দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদকের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন সোহেল ভাই আমার খুব কাছের বড় ভাই এবং বাংলাদেশে মিডিয়ার এমন কোন লোক নাই যে আমাকে চেনে না। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত প্রেমিক গণমাধ্যমকর্মীদের ক্রমাগত হুমকি দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পরিস্থিতির নাটকীয় মোড় নেয় তখন, যখন ভুক্তভোগী জুঁই আবারও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে দায়ের করা অভিযোগ তুলে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।আহত তরুণীর অভিযোগ, তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলা হয়েছে যাতে তিনি আইনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান। যে হাত প্রতিবাদের জন্য আইনের আশ্রয় নিয়েছিল, সেই হাতকেই এখন পর্দার আড়াল থেকে টেনে ধরা হচ্ছে।জনমনে প্রশ্ন ও বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে।একজন নারীর ওপর এমন পাশবিক হামলা, সত্য ধামাচাপা দিতে গণমাধ্যমকর্মীদের হুমকি এবং সর্বশেষ ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করার ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, একজন অপরাধী কতটা প্রভাবশালী হলে আইনের আশ্রয় নেওয়া একজন নারীকে মাঝপথে অভিযোগ তুলতে বাধ্য করতে পারে?এই অশুভ শক্তির হাত থেকে জুঁই কি শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পাবেন, নাকি প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে ধামাচাপা পড়ে যাবে এই নৃশংসতা? বনানীর এই ঘটনা এখন কেবল একজন নারীর ওপর হামলার বিচার নয়, বরং আইনের শাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম আমাদেরকে জানান, অভিযুক্ত জুয়েল ও অভিযোগকারী জুই থানায় এসে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে চাইলে আমরা জুই’কে আগে সুস্থ হওয়ার পরামর্শ দেই কিন্তু তারা তড়িঘড়ি করে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে চাইলে আমরা অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদনটি গ্রহণ করি। জানা যায় রাজধানীতে বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে প্রায় অর্ধশতাধিক সিসা লাউঞ্জ চলছে। যেগুলোতে সিসা লাউঞ্জের আড়ালে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ ও মাদকসেবিরা ভীড় জমায়৷ দিন গড়িয়ে রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বয়সের মাদকসেবিরা এসব সিসা লাউঞ্জে ভীড় জমায়।এর আগে গত ৩ মার্চ গুলসান-বনানীর অনুমোদনহীন মাদক সিসা ও সিসা লাউঞ্জ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে বনানীর কয়েকটি সিসা লাউঞ্জ ও বারগুলোতে অভিযান চালিয়েছিলেন পুলিশ। অভিযুক্ত জুয়েল “ব্লাক বার্চ কিচেন ও লাউঞ্জ” নামক একটি সিসা লাউঞ্জ পরিচালনা করে আসছেন। গোপন সূত্রে জানা যায় সিসা লাউঞ্জের আড়ালে নারীদের বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে নির্যাতন চালায় জুয়েল।