সিনিয়র রিপোর্টার জাকির হোসেন
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদপুরে পৃথক দুই অভিযানে প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের ১৯.৫ কেজি গাঁজাসহ চারজন সক্রিয় মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১০ এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ৭টা ৫০ মিনিটে ফরিদপুর সদর কোতোয়ালি থানার বদরপুর এলাকায় ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১০.৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল (২৭) ও রাশেদুল ইসলাম (২৬) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলার উত্তর মিলনপুর এলাকায়।অপরদিকে, ১০ জুন ২০২৬ তারিখ ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বেল্লাকান্দি এলাকায় আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। এ সময় ৯ কেজি গাঁজাসহ আরও দুই মাদক কারবারি মনির হোসেন ওরফে রুবেল (২৬) এবং আমির হোসেনকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে গাঁজা ও অন্যান্য মাদক সংগ্রহ করে ফরিদপুর, মাগুরাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছিল।র্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হস্তান্তর করা হয়েছে।র্যাব-১০ এর পক্ষ থেকে বলা হয়, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও ভয়াবহ হুমকি। যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে র্যাব সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক, সন্ত্রাস, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও র্যাবের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।“মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে” র্যাব-১০।