রংপুর প্রতিনিধি:রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় বিয়ের পর মোটা অঙ্কের কাবিননামা তৈরি করে স্বামীকে ফাঁসানো এবং পরবর্তীতে বাপের বাড়ির লোকজন দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও দোকান লুটের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শাশুড়ি বাদী হয়ে পুত্রবধুর বিরুদ্ধে মিঠাপুকুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগসূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে ২০২৫ তারিখে চিথলী পশ্চিম পাড়ার মৃত আলহাজ্ব আঃ মান্নান মিয়ার পুত্র মোঃ মিজানুর রহমানের সহিত পশ্চিম গেনার পাড়া এলাকার আক্কাস আলীর কন্যা মোছাঃ আফসানা মিমি আখির দ্বিতীয় বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ দেখা দেয়। এর একপর্যায়ে গত ১ মে ২০২৬ তারিখে স্বামী মিজানুর রহমানের মুদি দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ১০,০০০ টাকা এবং একটি দামি মোবাইল ফোন নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান আফসানা মিমি। পরদিন স্বামী তাকে ফিরিয়ে আনতে গেলে স্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে গালিগালাজ, মারধরের হুমকি এবং গর্ভের সন্তান নষ্ট করার হুমকি দেওয়া হয়।পরবর্তীতে উপায়ান্তর না পেয়ে মিঠাপুকুর থানায় অভিযোগ করলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি আপোষ-মিমাংসার চেষ্টা করেন। পুলিশের মধ্যস্থতায় পুত্রবধূ আফসানা মিমি আখি স্বেচ্ছায় স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন। তবে পুত্রবধূর এই প্রত্যাবর্তনকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি তার বাপের বাড়ির লোকজন।গত ১৯ মে, সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ টার সময় গৃহবধূর ভাই মোঃ আতাউর রহমান, মোঃ জাহিদ মিয়া, ও আতিক হাসান সহ অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা লাঠিসোটা, ছোরা ও চাকু নিয়ে দুটি ইজিবাইকযোগে মিজানুর রহমানের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। মিজানুর রহমান বাড়িতে না থাকার সুযোগে সন্ত্রাসীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এছাড়া বাড়ির সংলগ্ন মুতি দোকান থেকে চাল, ডাল, তেলসহ আনুমানিক আরও ২ লক্ষ টাকার মালামাল জোরপূর্বক লুট করে অটোতে তুলে নেয়। যাওয়ার সময় তারা ঘরের বউ আফসানা মিমি আখিকে সাথে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা সটকে পড়ে।ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, উক্ত নারী ও তার পরিবার সুপরিকল্পিতভাবে বিয়ে করে মোটা অঙ্কের কাবিননামা তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ফাঁসাচ্ছে। এর আগেও কাবিননামার ভয় দেখিয়ে ওই নারী অন্য জায়গা থেকে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি মূলত তাদের একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র।তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আফসানা মিমি আখির সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ এরশাদ আহমেদ জানান, আমরা এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।