নিজস্ব প্রতিনিধি:
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের আলোচিত সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মোঃ বিল্লাল হোসেন এর বিরুদ্ধে বিগত দিনে অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কমিশন বাণিজ্য, দখল বাণিজ্য, তদবির বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এলাকার মানুষের মুখে মুখে। বিগত দিনে তিনি এসব অপকর্মের জন্য বহুবার জেলে গিয়েছেন এবং অনেক মামলার আসামী হয়েছেন। বিল্লাল কাউন্সিলরের নামে ১৩টি মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
গোপন সূত্রে আরো জানা যায়, তিনি সবসময় নিজের নিয়ন্ত্রণে অবৈধ পিস্তল নিয়ে চলাফেরা করেন বলেও লোক মুখে শোনা যায়।
কাউন্সিলর বিল্লাল বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর আরোও বেপরোয়া হয়ে উঠে। কুমিল্লা সিটিতে আতঙ্কের নাম এই বিল্লাল কাউন্সিলর। আ’লীগের আমলেও টেন্ডার বাণিজ্য কমিশন বাণিজ্যসহ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন তিনি। বিগত ৫ আগস্টের পর কুমিল্লা ফৌজদারী এলাকায় কালা মিয়া সর্দারের তিনটি দোকান জোড়পূর্বক দখল করে নিয়েছেন।
ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কুমিল্লার এলজিইডি ভবন, জেলা পরিষদের ঠিকাদারি বিল্লাল একাই নিয়ন্ত্রণ করেন বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। তিনি বিভিন্ন ঠিকাদারদের মারধর করে তাদেরকে অফিস থেকে বের করে দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নুন আনতে পানতা ফুরানো কুমিল্লা শহরের পেশাদার রিকশা চালক বসু মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেন এখন শতকোটি টাকার মালিক।
তার দাপটে এলাকার মানুষ ভয়তে দিশেহারা থাকে। কুমিল্লায় ২৬ জন চাঁদাবাজদের তালিকায় বিল্লাল হোসেনের নাম রয়েছে সবার আগে।
৫ আগস্টের পর বিল্লাল কাউন্সিলর নিয়ম বহির্ভুতভাবে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির উদদেষ্টা পদ বাগিয়ে নেন। এই উপদেষ্টা পদ বাগিয়ে নেয়ার সুবাধে তিনি দলিল লেখকদের চাপ দিয়ে প্রতি দলিল প্রতি ১ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে। সূত্রে আরো জানা যায়, আওয়ামীলীগের এমপি আবু জাহেরের ঠিকাদারী কুমিল্লা জেলখানার ভেতরে যত কাজ সব কাউন্সিলর বেলালের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে বিল্লাল তদবির বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, মামলা বাণিজ্য করে বহাল তবিয়তে রাম রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন। সুবিধাবাদ এবং সুচতুর বিল্লাল সব আমলেই টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিতে বেপরোয়া।
বিশ্ব মিডিয়া প্রতিনিধি তার এই বিশাল অপকর্মের ব্যাপারে তাকে ফোন করলে জানান, আমি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছি কিন্তু এখন তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে, অন্যান্য বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার প্রতিপক্ষরা এগুলো বলে বেড়ায়।
তার বিভিন্ন অপরাধের অনুসন্ধান অব্যাহত আছে, আগামী সংখ্যায় বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ হবে।