রিপোর্ট আনিছুরজ্জামান খোকন রাজধানীর ভাটারা থানা প্রাঙ্গণ এবং সংলগ্ন সড়কগুলো এখন দৃশ্যত এক বিশাল পরিত্যক্ত ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ও কাগজপত্রবিহীন অবস্থায় জব্দকৃত শতাধিক প্রাইভেট কার। আইনি জটিলতা আর প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজালে আটকে থেকে রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ, যার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।অবহেলার চালচ্চিত্র: ধুলো আর মরিচায় মিলিয়ে যাচ্ছে কোটি টাকাসরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, থানা চত্বর এবং আশপাশের খালি জায়গায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য বিলাসবহুল ও সাধারণ প্রাইভেট কার। তবে ‘দাঁড়িয়ে থাকা’ শব্দটিও বোধহয় এখন খাটছে না; গাড়িগুলোর সিংহভাগই এখন ভাঙাচোরা, চাকা হাওয়াশূন্য এবং বডিতে জং ধরা কঙ্কাল মাত্র। দীর্ঘদিনের অযত্নে অনেক গাড়ির ভেতরের মূল্যবান যন্ত্রাংশ, এসি ও ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়েছে। যা একসময় সচল এবং মূল্যবান সম্পদ ছিল, তা এখন শুধুই ভাঙাড়ির স্তূপ।আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যে সম্পদকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল, তা এভাবে ধ্বংস হতে দেওয়া স্পষ্টতই রাষ্ট্রীয় সম্পদের চরম অপচয় ও এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতা।জনদুর্ভোগের নতুন মাত্রা: গাড়িগুলো রাখার সুনির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ভাটারা থানার আশপাশের পাবলিক রাস্তা ও ফুটপাত এখন বেদখল। এর ফলে ওই এলাকায় প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং পথচারীদের যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।পরিবেশগত বিপর্যয় ও নিরাপত্তা ঝুঁকিদীর্ঘদিন স্থবির হয়ে পড়ে থাকা এসব গাড়ির নিচে ময়লা-আবর্জনা জমে সৃষ্টি হচ্ছে মশার প্রজনন ক্ষেত্র, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এছাড়া, অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় রাতের অন্ধকারে এসব গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। থানার মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সরকারি দপ্তরের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য এই বিশৃঙ্খল গাড়িগুলোর কারণে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।উত্তরণের উপায়: দ্রুত নিলাম ও আইনি সংস্কার জরুরিসচেতন মহল ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জব্দকৃত গাড়িগুলোর আইনি নিষ্পত্তি এভাবে বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।জরুরি নিলাম ব্যবস্থা: যেসব গাড়ির মালিকানার দাবিদার নেই বা আইনি মারপ্যাঁচ জটিল, সেগুলো আদালতের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে দ্রুত উন্মুক্ত টেন্ডার বা নিলামের আওতায় আনা উচিত।রাজস্ব বৃদ্ধি: এতে করে একদিকে যেমন সরকারের কোষাগারে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব জমা হবে, অন্যদিকে মূলবান লোহা ও যন্ত্রাংশগুলো পুনঃব্যবহারের সুযোগ পাবে।থানার শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার: নিলামের মাধ্যমে জায়গা খালি হলে থানার স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরে আসবে, অবসান ঘটবে জনদুর্ভোগের।একটি আধুনিক ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সম্পদের এমন অপচয় কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভাটারা থানার এই অচলাবস্থা নিরসনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডিএমপি এবং সংশ্লিষ্ট বিচারবিভাগীয় কর্তৃপক্ষ অনতিবিলম্বে একটি সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের।