নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে একজন আইনজীবী কর্তৃক বিচারপ্রার্থীর সাথে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং গুরুতর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ঢালীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী মো. আবুল হাসনাত রাসেল প্রতারণা, প্রাণনাশের হুমকি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।অভিযোগের সারসংক্ষেপ ও আইনি প্রেক্ষাপট:অভিযোগ অনুযায়ী, আসামী হুমায়ুন কবির ঢালী মামলা পরিচালনার নাম করে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ২০,০০০ টাকা এবং পরবর্তীতে ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে আরও ১,০০,০০০ টাকা গ্রহণ করেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি আইনি সহায়তা প্রদানের পরিবর্তে অসাধু পন্থায় টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রেখেছেন।গণমাধ্যম ও বিচারপ্রার্থীর ওপর হামলা:গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী তার পাওনা অর্থ ফেরত চাইতে গেলে ঢাকা আইনজীবী ভবনের ৬০০২ নম্বর কক্ষে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ঢালী এবং অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জন সহযোগী তার ওপর হামলা চালান। এ সময় ভুক্তভোগীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় চাপ দেওয়া হয় এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিক মাসুদা রানা ও রাবেয়াকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। একজন আইনজীবী হয়ে আইন ও বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে এ ধরনের সহিংসতা ফৌজদারি দণ্ডবিধির আওতাভুক্ত গুরুতর অপরাধ।আইনি পদক্ষেপ:ভুক্তভোগী ইতোমধ্যে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ (নং-২৪/২৬, তারিখ: ২১/০৫/২০২৬) দাখিল করেছেন। এছাড়া ঘটনার পর ভুক্তভোগী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হয়েছেন।আইনজীবীরা আদালতের অফিসার হিসেবে পরিগণিত হন এবং রাষ্ট্রপতির অনুগত বিচার ব্যবস্থার অংশীদার। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।(দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি বিদ্যমান নথিপত্র ও অভিযোগের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। বাংলাদেশে আইনের শাসন বজায় রাখার স্বার্থে এই ধরণের ঘটনা সংশ্লিষ্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে বিচারিক প্রক্রিয়ায় মীমাংসা করা জরুরি।)