বিশেষ প্রতিবেদক,বরগুনা
বরগুনা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা: সুলতান আহমেদ অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নীরবতায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ধ্বংসের সম্পূর্ণ ভাবে বিনষ্ট করা হচ্ছে। জেলার পাথরঘাটা উপজেলায় তার নির্বাচনী জনসভা ও প্রচারণায় পরিকল্পিত ভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখায়।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বরগুনা শহরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।ডা: সুলতান আহমদ বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারি পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার জনসভায় আসতে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর বিরোধী দলের কর্মীরা দলবদ্ধভাবে হামলা চালায়। কাঠালতলী ইউনিয়নের কেরামতপুর বাসস্ট্যান্ড, চরদুয়ানী খেয়াঘাট, টেংড়া বাজার, খলিফার হাটসহ একাধিক স্থানে জনসভায় যোগ দিতে আসা লোকজনকে বাধা দেওয়া হয় এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়।এ সময় বরগুনা২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরুসহ জামায়াতের একাধিক নেতা কর্মীদের গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে ফেরদাউস, সাব্বির, রাসেল ও মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন পাথরঘাটা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার সময় একাধিক সাংবাদিকও বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা অন্তত পাঁচটি মূল্যবান মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। একাধিক মোটরসাইকেল ও ভাড়াকৃত অটোরিকশা ভাঙচুর করে। এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিক ভাবে পাথরঘাটা থানাকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।ডা: সুলতান আহমদ অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের এই নীরবতা ও মন্থরতার সুযোগ নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের কর্মীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন ১০ ফেব্রুয়ারি সকালে কাঠালতলী ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামে ধানের শীষের কর্মীরা মিছিল করে এবং একই দিন সদর ইউনিয়নের পদ্মা গুচ্ছ গ্রামে প্রায় চার শতাধিক লোক নিয়ে সভার নামে টাকা বিতরণ করা হয়। যা নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর নির্দেশে তার কর্মী ও সহযোগীরা পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ও গ্রামে গিয়ে বিরোধী ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, সোমবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে তালুকের চরদুয়ানী এলাকার হরের খাল ব্রিজের ওপর জামায়াত কর্মী মাওলানা মাহফুজুর রহমানকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারাত্মক ভাবে আহত করে।ডা: সুলতান আহমদ বলেন, অবিলম্বে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বরগুনা-২ আসনে ভোটার উপস্থিতি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন অসম্ভব হয়ে উঠবে।তিনি নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান।এম মজিবুল হক কিসলু বরগুনাতারিখ ১০-২-২৬