লিটন কুমার ঢালী, বেতাগী:
পবিত্র মাহে রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে বরগুনার বেতাগীতে বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের দোকানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহা. সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই মোবাইল কোর্ট জনস্বার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।অভিযান চলাকালে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তালিকা যাচাই, অতিরিক্ত দাম আদায়, ভেজাল পণ্য বিক্রি এবং বাজারের সার্বিক শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, ছোলা ও অন্যান্য রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি লক্ষ্য করা যায়। এ সময় ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখার বিষয়েও সতর্ক করা হয়।মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় বাজারে ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামতও শোনা হয়। অনেক ক্রেতা জানান, রমজান আসলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিত্যপণ্য কেনা কষ্টকর হয়ে পড়ে। প্রশাসনের এই উদ্যোগ তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে বলে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহা. সাদ্দাম হোসেন বলেন, পবিত্র মাহে রমজান মাসে কোনোভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায় সহ্য করা হবে না। বাজারে স্বাভাবিক মূল্য বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জানান, প্রশাসনের তদারকি থাকলে বাজারে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ বজায় থাকে এবং অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি রোধ করা সহজ হয়। উপজেলা প্রশাসনের এমন কার্যক্রম রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও জনভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সচেতন মহল মনে করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, রমজান মাস জুড়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে সক্ষম