স্টাফ রিপোর্টার: আমিনুল ইসলাম ,
ধামরাই | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ঢাকার ধামরাই উপজেলার সূয়াপুর ইউনিয়নে সরকারি রাস্তা ও খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণে বাধা দেওয়ায় এলাকার চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জনৈক মো. বাবুল হোসেন নিজের প্রভাব খাটিয়ে সরকারি সম্পদ গ্রাস করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে এই বানোয়াট মামলা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আনন্দ নগর এলাকায় বাবুল হোসেন সরকারি রাস্তার ওপর সীমানা প্রাচীর এবং পাশের একটি খালের জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করায়। জনস্বার্থে এই অবৈধ নির্মাণকাজে বাধা দেন স্থানীয় সমাজসেবক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবুল হোসেন গত ২০ ফেব্রুয়ারি ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে বিবাদী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন— সূয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আলম উদ্দিন (৫৯), ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লতিফ খান (৫৫), ইব্রাহিম (৪৬) এবং উজ্জ্বল মিয়া (৪৫)। উল্লেখ্য, ইব্রাহিম ও উজ্জ্বল মিয়াও এলাকায় বিএনপির সক্রিয় সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাবুল হোসেন সরকারি রাস্তা সংকুচিত করে দেয়াল তুলছিলেন, যা সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটাত। এছাড়া খালের ওপর স্থাপনা নির্মাণ করায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হবে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় বাবুল হোসেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে রাজনৈতিক নেতাদের জড়িয়ে ‘চাঁদাবাজি’ ও ‘মারধরের’ মিথ্যা গল্প সাজিয়েছেন।
আসামি তালিকায় থাকা আলম উদ্দিন ও লতিফ খান বলেন, “আমরা শুধু সরকারি সম্পদ রক্ষায় এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে কথা বলেছি। অথচ আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করতে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ফেসবুকেও আমাদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, অভিযুক্ত চারজনই এলাকায় দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। অন্যদিকে, বাবুল হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি জমি ও খাল দখলের চেষ্টার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। মূলত নিজের অবৈধ কাজ হাসিল করতে না পেরেই তিনি আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে একটি সাজানো মামলা দায়ের করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত ও কর্মকর্তা (ওসি) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।