আমি হাদি হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে পুলিশের নৃশংস নির্যাতনের শিকার মহিউদ্দিনসহ অন্যান্যদের দেখতে গিয়েছিলাম। এসময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর পরিচালক আসাদ সাহেবের সঙ্গে সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় জেনে আমি বিস্মিত হই, ঢাকা মেডিকেলে প্রায় ৭,৫০০ জন কর্মী (ডাক্তারসহ) কাজ করলেও, সরকারি যানবাহনের ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র একজনের জন্য, পরিচালকের। স্টাফদের জন্য কোনো সরকারি গাড়ি নেই।
প্রায় ৫০,০০০ রোগীর সেবা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল দেশের সবচেয়ে মুমূর্ষু ও জটিল রোগীদের চিকিৎসা করে। ১০,০০০–১২,০০০ রোগী প্রতিদিন দেখতে পাওয়া যায়। অনেক সময় দেখা যায়, দুর্ঘটনা বা রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার মানুষকে কাছাকাছি হাসপাতাল নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু বেড সংকট, জনবল ঘাটতি সত্ত্বেও ঢাকা মেডিকেল শেষ চেষ্টা পর্যন্ত রোগীর পাশে দাঁড়ায়। মানে, হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেশি!
এই বাস্তবতায় যদি জরুরি অপারেশন, ওষুধ সরবরাহ বা স্টাফদের যাতায়াতের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে “ডাক্তার আসার আগেই রোগী মারা গেছে” এই কথাটির বাস্তব অর্থ বোঝা যায়। শুধু অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে সব পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের শীর্ষ সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তার ও সেবাকর্মীদের জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা না থাকা দুঃখজনক। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নিজেদের সুবিধার জন্য কোটি কোটি টাকার গাড়ি কিনেছে।
তাহলে কি মানুষের জীবন বাঁচানোর মতো পেশার কোনো মর্যাদা নেই?
আমি আলোচনার পর আশ্বস্ত করি, ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২-৩ টি স্বল্পমূল্যের প্রাইভেট কার বা বড় গাড়ি সংগ্রহের চেষ্টা করব, যাতে জরুরি সেবা নির্বিঘ্নে চালানো যায়। এটি হয়তো সমুদ্রে এক বালতি পানি, কিন্তু আমার উদ্যোগ দেখে যদি অন্যরা এগিয়ে আসে, তাহলে বড় পরিবর্তন সম্ভব।
নতুন সরকারের প্রতি আমার স্পষ্ট আহ্বান, অবিলম্বে ঢাকা মেডিকেলের জন্য অন্তত ৫০০টি সরকারি যানবাহন বরাদ্দ দিন।
এতে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।
যাঁরা এই উদ্যোগে সহায়তা করতে চান, অনুগ্রহ করে যোগাযোগ করুন।
গুটি গুটি পায়েই পথ চলা শুরু হয়, সেই পথ ধরেই একদিন বাংলাদেশ সত্যিকারের মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
-মেঘনা আলম
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রশিক্ষক ও পরিবেশকর্মী