স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী (বরগুনা):
সরিষামুড়ি ইউনিয়নে তিন ভাইয়ের যৌথ উদ্যোগে চাষ করা তরমুজে বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে তাদের ক্ষেতজুড়ে সবুজ লতায় ঝুলছে বড় বড় তরমুজ। স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, আধুনিক পদ্ধতি ও সময়মতো পরিচর্যার কারণেই এ সফলতা এসেছে।জানা গেছে,বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের ভোড়া কালিকাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা তিন ভাই রাসেল, সাবাবুদ্দিন ও রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে ধান চাষ করলেও এবার প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ আবাদ করেন। প্রায় ১ একর জমিতে উন্নত জাতের তরমুজের চাষ করেন তারা। শুরুতে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগবালাই কম হওয়ায় ফলন হয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।এদিকে ক্ষেতজুড়ে তরমুজের সমারোহ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয়রা। অনেকেই বলছেন, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরামর্শ মেনে চললে গ্রামেই তৈরি হতে পারে সাফল্যের নতুন গল্প। সরিষামুড়ি ইউনিয়নের তিন ভাইয়ের তরমুজ চাষ এখন এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। তরমুজ চাষি রাসেল বলেন, প্রতি একরে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ মণ তরমুজ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে পাইকাররা ক্ষেত থেকে তরমুজ কিনতে আসলে কোন তরমুজ বিক্রি করেনি । বাজারে ভালো দাম পেলে, খরচ বাদ দিয়ে উল্লেখযোগ্য লাভের আশা করছেন তারা। চাষি রিয়াদ বলেন জানান, “পরিশ্রম আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে কৃষিতে সফলতা সম্ভব। আমরা আগামী বছর আরও বেশি জমিতে তরমুজ আবাদ করতে চাই।”বেতাগী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক সময় বীজ বপন, সেচ ব্যবস্থাপনা ও জৈব সার ব্যবহারের ফলে ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকদের এমন উদ্যোগ অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ: সাদ্দাম হেসেন বলেন,’ বেতাগী উপজেলার সকল মানুষের চাহিদা মিটিয়ে অন্য উপজেলায় বিক্রি করা যাবে। তরমুজ চাষে চাষিরা লাভবান হবে।