স্টাফ রিপোর্টার :
আমিনুর ইসলাম মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নের করিখুলার চকে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবাধে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির উর্বর মাটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাদ্দাম ও জিয়া নামের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির নেতৃত্বে এই মাটি কাটার তান্ডব চলছে। এতে করে বিঘ্নিত হচ্ছে এলাকার কৃষিকাজ এবং ধ্বংস হচ্ছে শত শত একর আবাদি জমি। প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।সরেজমিনে গিয়ে এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে করিখুলার চকের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে গভীর করে মাটি খনন করা হচ্ছে। এসব মাটি শত শত ড্রাম ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটা ও নিচু জমি ভরাটের কাজে। ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। বাতাসে ছড়াচ্ছে ধুলোবালি, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাটি কাটার এই উৎসবের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ধান, গম, ভূট্টা, পাটসহ বিভিন্ন চলতি মৌসুমের ফসল। মাটির ট্রাক চলাচলের কারণে ফসলের ওপর ধুলোর আস্তরণ পড়ে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক বা প্রভাব খাটিয়ে মাটির গাড়ি নেওয়ার কারণে নষ্ট হচ্ছে সাধারণ কৃষকের খেতের ফসল।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “সাদ্দাম ও জিয়ার ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দিন-রাত সমানে মাটি কেটে বিক্রি করছে। চকের জমিগুলো বিশাল গর্তে পরিণত হচ্ছে, যার ফলে পাশের জমিও ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা বাধা দিলে উল্টো হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না, তারা যেন দেখেও না দেখার ভান করে আছে।”ভূমি আইন অনুযায়ী, কৃষিজমি থেকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ এখানে প্রকাশ্যেই চলছে এই কর্মযজ্ঞ। পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কেটে নিলে ওই জমিতে আগামী কয়েক বছর কোনো ভালো ফলন হবে না। যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফসলি জমির মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুতই মোবাইল কোর্ট বা অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।কৃষিজমি ও গ্রামীণ পরিবেশ রক্ষায় আটিগ্রামের করিখুলার চকে অবিলম্বে এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।