নিজস্ব প্রতিবেদক
গৃহবধূকে যৌতুকের দাবীতে নির্যাতন করার অভিযোগে শশুর ও ভাসুরের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো: ওসমান গনি এ আদেশ দিয়েছেন। আসামীরা হলো বরগুনা সদর উপজেলার পদ্মা গ্রামের শশুর আবুল কালাম বিশ্বাস ও ভাসুর মোঃ ফরিদ বিশ্বাস।জানা যায়, গৃহবধূ মিম ওই ট্রাইব্যুনালে গত বছরের ১৩ অক্টোবর অভিযোগ করেন, তার স্বামী মোঃ ফোরকান বিশ্বাস বিদেশে যাবার সময় বাদি দুই লাখ টাকা বাবার বাড়ি থেকে এনে দেয়। বাদির স্বামী ফোরকান বিদেশে যাবার পরে তার শশুর ও ভাসুর আরও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে বাদিকে মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। বাদি অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, তার তিন বছরের একটি মেয়ে আছে। শশুর ও ভাসুরের নির্যাতন সহ্য করেও শশুরের ঘরে থাকে। এক পর্যায় গত বছরের ১০ অক্টোবর সকাল অনুমান ১১ টার সময় শশুরের বসত ঘরের মধ্যে ভাসুর তার স্বামীর নিকট ফোন দেয়। ওই সময় ভাসুর ফোন লাউড স্পীকারে দিয়ে তার ছোট ভাইর সঙ্গে কথা বলে বাদির নিকট দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। বাদি যৌতুক দিতে অস্বীকার করে। এমন সময় ফোরকার তার বাবা ও ভাইকে গৃহবধূকে মারতে বলে। ফোরকানের নির্দেশে গৃহবধূকে হত্যার উদ্দেশ্য মারধর করে। বাদির অভিযোগে আরও জানা যায়,ভাসুর গৃহবধূকে তলপেটে লাথি মেরে পিটিয়ে জখম করে। শশুর গৃহবধূর বুকের উপরে লাথি মারে। মামলা করার পরে তিনি আর শশুর বাড়ি থাকতে পারেনি। মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকে। ট্রাইব্যুনাল ওই শশুর ও ভাসুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নির্দেশ দেয়। বাদিকে না জানিয়ে বুধবার হাজির হলে জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়। আসামীদের আইনজীবী নেপোলিয়ন জানান, তার আসামীরা নির্দোষ। ওই ট্রাইব্যুনালে আবারও জামিনের আবেদন করবেন। রাস্ট্র পক্ষে পিপি রনজুয়ারা সিপু জানান, বাদির স্বামীর নির্দেশে যৌতুকের বাদিতে শশুর ও ভাসুর বাদিকে হত্যা করার উদেশ্য নির্যাতন করেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্যতা পেয়েছে।