বরিশাল ডেক্সঃ
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামজারি (মিউটেশন) নিষ্পত্তি হওয়ার কথা। কিন্তু পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বাস্তব চিত্র যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ না করলে অধিকাংশ আবেদন সময়মতো নিষ্পত্তি হয় না। বরং আবেদনকারীদের দিনের পর দিন ঘুরতে হয়, তদন্ত প্রতিবেদন আটকে রাখা হয়, নানা অজুহাতে ফাইল ঝুলিয়ে রাখা হয়, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবেদন বাতিলও করা হচ্ছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুরো মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগী, স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ না করলে অধিকাংশ আবেদন সময়মতো নিষ্পত্তি হয় না। বরং আবেদনকারীদের নানা অজুহাতে ঘুরানো, তদন্ত প্রতিবেদন বিলম্বিত করা কিংবা আবেদন বাতিলের মতো অভিযোগও রয়েছে।অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মহিপুর ইউনিয়ন ভ‚মি অফিসের দুই তহশিলদার মোহাম্মদ আসিফ নূর ও তাফিমুল ইসলামকে ঘিরেই একটি প্রভাবশালী দালাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। এই নেটওয়ার্কে অফিসের কয়েকজন কর্মচারী, চুক্তিভিত্তিক নৌশ প্রহরী (নাইড গার্ড) মোঃ জাকির, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মনিরুজ্জামান, অফিস সহায়ক জুবায়ের হোসেন, অফিস সহায়ক মাসুদ রানা, দলিল লেখক (ভেন্ডার), বেসরকারি সার্ভেয়ার এবং স্থানীয় দালালদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে অফিস সহায়ক জুবায়ের হোসেনকে তার পূর্বের কর্মস্থল দশমিনা থেকে তদবির করে মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিয়ে আসেন তহশিলদার মোহাম্মদ আসিফ নূর। এছাড়া বহিরাগত দালালদের মধ্যে অন্যতমরা হলেন কুয়াকাটার স্থানীয় বাসিন্দা বেসরকারী সার্ভেয়ার গনি, নিলগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, নীলগঞ্জ পাখিমারার বাসিন্দা সার্ভেয়ার আমানউল্লাহ, কলাপাড়া পৌরসভার মধ্যে উকিলপট্টি এলাকার দলিল লেখক (ভেন্ডার) মোঃ সালাম, আলমগীর খান, শাজাহান সিরাজ, মোশাররফ, আলমগীর সহ আরও অনেকে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।