মো সফর মিয়া, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রতিনিধি;ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে রাতের আঁধারে টানানো একটি ‘ভুয়া’ পোস্টারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টারটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদলের ছবির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমানের ছবি ও নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে হাবিবের দাবি, তাঁর অনুমতি ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে এই পোস্টার তৈরি ও সাঁটানো হয়েছে।এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার স্বার্থে আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে নবীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মো. হাবিবুর রহমান। তিনি উপজেলার পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রামের বাসিন্দা এবং ২০২২ সালের ইউপি নির্বাচনে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) পদপ্রার্থী ছিলেন।জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার গভীর রাতে নবীনগর বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টারগুলো সাঁটানো হয়। আজ সকালে বাজারে আসা লোকজন পোস্টারগুলো দেখতে পেয়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন। পোস্টারটিতে “ফয়জুর রহমান বাদলের নিঃশর্ত মুক্তি চাই” লেখা থাকলেও, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও মো. হাবিবের ছবি ও নাম যুক্ত করায় তৈরি হয়েছে নানা রহস্য।ভুক্তভোগী মো. হাবিবুর রহমান বলেন,”আমি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বা সমর্থক নই। আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও আইনি জটিলতায় ফেলার উদ্দেশ্যে আমার অনুমতি ছাড়া এই পোস্টার তৈরি করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।”স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এটি কেবল পোস্টার লাগানোর সাধারণ ঘটনা নয়; বরং কারও সম্মানহানি কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অংশ হতে পারে। পোস্টারগুলো কোথায় ছাপা হয়েছে, কারা এর অর্থায়ন করেছে এবং গভীর রাতে কারা এগুলো দেয়ালে লাগিয়েছে—তা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে খুঁজে বের করার জোর দাবি উঠেছে।এ বিষয়ে নবীনগর থানা কর্মকর্তা(ওসি ভারপ্রাপ্ত) জানান, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।