1. admin@bishwamedia.com : Main :
  2. news@bishwamedia.com : Bishwa Media : Bishwa Media
বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিশুদের উপহার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ বিশ্বের কাছে ১০ মিনিট সময় চায় লাখো রোহিঙ্গা- ঘরে ফেরার আকুতি মধুখালীতে যুবদলের আঞ্চলিক অফিস উদ্বোধন মিট দ্যা ডিসি মধুখালীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান উখিয়া তাহজিবুল উম্মাহ মডেল হিফজ মাদরাসায় বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল মানিকগঞ্জে বৃক্ষরোপণ উৎসবের আড়ালে নির্বিচারে চলছে গাছ নিধন বরিশালে আলোচিত মাদক সম্রাট রিফিউজি রফিক সহ আটক ৬ বরগুনায় ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ৫ জেলের মরদেহ উদ্ধার বাঘাইছড়িতে উপজেলা এডমিনিস্ট্রেশন স্কুল এন্ড কলেজে যুক্ত হলো আধুনিক আইসিটি ল্যাব সামগ্রী বামনায় বাজারের ব্যাগে ফেলে রাখা সদ্যোজাত কন্যাশিশু উদ্ধার

শিশুদের উপহার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ

  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘এ যেন সর্ষের মধ্যে ভূত’শিশুরা কোমলপ্রাণ। তাদের ছোট্ট হৃদয়ে আনন্দ যেমন খুব সহজে জায়গা করে নেয়, তেমনি সামান্য কষ্টও তাদের মনে গভীর দাগ কাটতে পারে। শৈশবের অভিজ্ঞতাই ধীরে ধীরে একটি শিশুর মানসিকতা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ আচরণকে গড়ে তোলে। তাই শিশুদের নিয়ে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠান বা কর্মসূচিতে তাদের অধিকার, অনুভূতি ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত “২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন” প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ২০টি ডে-কেয়ার সেন্টারে প্রায় ১,২০০ জন কর্মজীবী মায়ের সন্তানকে দিবাকালীন সেবা প্রদান করা হচ্ছে। কর্মজীবী মায়েদের জন্য এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই শিশুদের ঘিরে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় উঠেছে হৃদয়বিদারক অভিযোগ—যা সত্য হলে তা শুধু প্রশাসনিক নয়, মানবিকভাবেও গভীরভাবে উদ্বেগের বিষয়।প্রধানমন্ত্রীর হাতের উপহার—তারপর কী ঘটেছিল?অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯ মে ২০২৬ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান প্রকল্পের আওতাধীন ভূমি ভবন ডে-কেয়ার সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে কেক কাটেন, তাদের চকলেট বিতরণ করেন এবং শিশুদের হাতে উপহার তুলে দেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে উপহার পেয়ে শিশুদের মধ্যে সৃষ্টি হয় বাঁধভাঙা আনন্দ। ছোট্ট শিশুরা হয়তো উপহারের আর্থিক মূল্য বোঝেনি; কিন্তু তারা বুঝেছিল—এটি তাদের জন্য বিশেষ একজন মানুষের দেওয়া ভালোবাসার স্মৃতি।কিন্তু অভিযোগ, এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর প্রকল্প পরিচালক শবনম মোস্তারির নির্দেশে শিশুদের কাছ থেকে উপহারগুলো নিয়ে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে সেগুলো প্রকল্প কার্যালয়ে পাঠানো হয়—এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।অভিযোগটি সত্য হলে, সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয়টি হলো—শিশুরা বিষয়টি বুঝতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং অভিভাবকরাও আপত্তি জানান। তবুও তাদের হাতে সেই উপহারগুলো আর ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির অভিযোগঘটনাটি এখানেই শেষ নয়।৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিকিৎসক ও শহীদ জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইসচেয়ারম্যান জনাব জোবাইদা রহমান প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত পানি ভবন ডে-কেয়ার সেন্টার পরিদর্শন করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিনি শিশুদের সঙ্গে কেক কাটেন, চকলেট ও উপহার বিতরণ করেন এবং তাদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটান।শিশুদের ছোট্ট পৃথিবীতে আবারও নেমে আসে উৎসবের আবহ।কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানেও ঘটেছে একই ঘটনা—শিশুদের হাতে দেওয়া উপহার পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে নিয়ে প্রকল্প কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।দুটি ভিন্ন দিন, দুটি ভিন্ন আয়োজন—কিন্তু অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে সমাপ্তিটা যেন একই গল্পের পুনরাবৃত্তি।প্রশ্নটা উপহারের নয়, শিশুর অনুভূতিরএখানে মূল প্রশ্ন উপহারটির দাম কত ছিল, সেটি নয়।মূল প্রশ্ন হলো—একটি শিশুর হাতে যখন ভালোবাসার স্মারক তুলে দেওয়া হয়, তখন সেটি তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার অধিকার কার?একটি শিশু যখন আনন্দে উপহারটি বুকে জড়িয়ে ধরে, তখন তার কাছে সেটি হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস। সেই উপহার কেড়ে নেওয়া মানে শুধু একটি বস্তু সরিয়ে নেওয়া নয়; তার ছোট্ট মনে জন্ম দিতে পারে হতাশা, বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস।আমরা শিশুদের শেখাতে চাই—ভালোবাসা সত্যি, বড়রা নিরাপদ, প্রতিশ্রুতি মূল্যবান এবং পৃথিবী তাদের জন্য সুন্দর।কিন্তু যদি কোনো শিশুর চোখের সামনে তার আনন্দ কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে সেই শিশু কী শিখবে?‘এ যেন সর্ষের মধ্যে ভূত’শিশুদের সুরক্ষা, বিকাশ, আনন্দ ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই ডে-কেয়ার সেন্টারগুলো পরিচালিত হয়। কর্মজীবী মায়েরা বিশ্বাস করে তাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ—তাদের সন্তান—নিরাপদ হাতে রেখে কর্মস্থলে যান।তাই শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থার ভেতর থেকেই যদি তাদের আনন্দ, অনুভূতি কিংবা প্রাপ্য জিনিস নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।এ যেন সর্ষের মধ্যে ভূত!যে ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য শিশুদের নিরাপদ, আনন্দময় ও বিকাশবান্ধব পরিবেশ দেওয়া, সেই ব্যবস্থার ভেতরেই যদি শিশুদের কান্নার কারণ তৈরি হয়—তাহলে তার চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে?নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি প্রয়োজনঅভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছিল, উপহারগুলো কেন নেওয়া হয়েছিল, কার নির্দেশে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে সেগুলোর কী করা হয়েছে—এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর শিশুদের অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রয়েছে।কারণ একটি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র কেবল চার দেয়ালের একটি প্রতিষ্ঠান নয়।এটি একজন মায়ের কর্মস্থলে নিশ্চিন্তে থাকার কারণ।এটি একটি শিশুর নিরাপদ শৈশবের আশ্রয়।এটি রাষ্ট্রের কাছে অভিভাবকদের আস্থার প্রতীক।সেই আস্থা যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়।শিশুদের কাছ থেকে তাদের হাসি কেড়ে নেওয়া নয়—আমাদের দায়িত্ব তাদের হাসি আরও দীর্ঘ করা।একটি উপহারের মূল্য হয়তো কয়েকশ টাকা।কিন্তু একটি শিশুর হৃদয়ে সেই উপহারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আনন্দের মূল্য—অমূল্য।তাই শিশুদের স্বার্থে, অভিভাবকদের আস্থার স্বার্থে এবং সরকারি শিশু দিবাযত্ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও মর্যাদার স্বার্থে অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত, সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ...