বিশেষ প্রতিবেদক,বরগুনাতিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তলপেটে লাথি মেরে গর্ভপাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই গৃহবধূ চিকিৎসা শেষে রোববার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে চারজনকে আসামী করে একটি মামলা করেন। ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. ওচমান গনি মামলাটি গ্রহন করে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার মো: দুলাল হাওলাদারের ছেলে মো: রিপনকে (২৭) তার সহযোগী আসামীরা হলো, একই ঠিকানার তুহিন, ইউনুস ও নয়া মিয়া। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউট রনজুয়ারা সিপু। জানা যায়, আসামীদের একই গ্রামে গৃহবধূর বাড়ি। গৃহবধূর স্বামী সকাল সন্ধ্যা মাঠে কৃষকের কাজ করে। আসামী রিপন নিকটতম প্রতিবেশী হওয়ার সুযোগে ওই ১৯ বছরের গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দেয়। গৃহবধূ রিপনের প্রস্তাবে রাজি না হয়ে তার স্বামীকে বলে দেয়। গৃহবধূর স্বামী রিপনকে তার বাড়ি বা ঘরে যেতে নিষেধ করে দেয়। এতে রিপন অপমান বোধ করে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠে। রিপন তার সহযোগির সঙ্গে পরামর্শ করে গৃহবধূকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে।গত মাসের ১৫ তারিখ সকালে গৃহবধূর স্বামী নিত্যদিনের মত ট্রাকটর নিয়ে মাঠে যায়। এই সুযোগে রিপন ও তার সঙ্গীদের নিয়ে গৃহবধূর বাড়িতে যায়। রিপনের সঙ্গীরা বাহিরে থাকলেও সকাল অনুমান ১০ দিকে রিপন একটি ধারালো চাকু নিয়ে গৃহবধূর ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করার জন্য তাকে ঝাপটে ধরে। গৃহবধূ বাধা দিলে তাকে চাকু দিয়ে খুন করার হুমকি দেয়ে। রিপন গৃহবধূকে ধর্ষণের আপ্রান চেস্টা করে তার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় কামড় দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। গৃহবধূর ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। এমন সময় রিপনের সঙ্গীরা ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে মারধর শুরু করে রিপনকে নিয়ে বের হবার সময় রিপন গৃহবধূর তলপেটে জোরে লাথি মারে।গৃহবধূ বলেন, রিপন আমাকে ধর্ষণ করতে না পেরে তার সঙ্গীরা আমার ঘরে ঢুকে আমাকে মারধর শুরু করে। আমি রিপনকে বার বার বলি আমি অন্তঃসত্ত্বা। আমাকে মারবেন না। রিপন উত্তেজিত হয়ে আমার তল পেটে জোরে লাথি মারে। সাথে সাথে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রিপন আমার শরীরে বিভিন্ন স্থানে কামড় দিয়ে জখম করে। আমি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম। রিপনের লাথির আঘাতে ১৭ ডিসেম্বর বিকালে আমার তিন মাসের সন্তান নস্ট হয়ে যায়। আমি বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে মামলা করি। বাদির কাছ থেকে আসামী রিপনের ফোন সংগ্রহ করে ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।