নিজস্ব প্রতিবেদক :
সমাজের নানা দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস, মব, ঘুষ, চাঁদাবাজি কর্মকা-ের রিপোর্ট প্রকাশ করে দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করতে গিয়ে চরম বিপদের মুখোমুখি হচ্ছেন দেশের সাংবাদিকরা। সত্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে পদে পদে বাধা দেওয়া হচ্ছে তাদের। কথায় কথায় সন্ত্রাসীরা তাদের দিচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি, ধামকি। এমনি অভিযোগ যার বিরুদ্ধে বলছি মোছাঃ উম্মে হাবিবার কথা। চাকরি করছেন শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান ট্রাস্ট্রের বনানী কার্যালয়ে। গত সংখ্যায় তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন বলে এক অভিযোগের ভিত্তিতে খবর এসেছে। তিনি উচ্চস্বরে সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।বিশ্ব মিডিয়া প্রতিনিধি তার দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে উম্মে হাবিবার নানা অভিযোগের কল্প কাহিনী। রূপ কথার গল্পকেও হার মানায়।
দ্বিতীয় পর্বে উম্মে হাবিবার সেই ভয়াবহ জীবনের শে^তপত্র উন্মোচন করার চেষ্ট করবো।
উম্মে হাবিবা চাকরিতে প্রবেশের সময় জন্ম তারিখ স্মার্ট কার্ডের তথ্য অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৭ নভেম্বর-১৯৭৮ ইং। ২০২১ সালের ০৪ জানুয়ারি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি চাকরিতে প্রবেশ করেন। তখন তার বয়স পরিলক্ষিত হয় ৪২ বছর। কোন বিধিতে আছে যে ৪২ বছর বয়সে চাকরি পাওয়া যায়। এই সব সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে। তার আমলে ক্ষমতার একচেটিয়া প্রভাব আর টাকার হলিখেলার কাছে সবই সম্ভব হয়েছে। উম্মে হাবিবা ও তার আত্মীয় সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামানের প্রভাবে চাকরি নিয়েছেন। চাকরি নিয়ে মনে করেছেন, এইচএসসি পাশ তাতে কি হয়েছে তার মন্ত্রী কাকাতো পেছনে আছে। কে তাকে দমিয়ে রাখবে, তিনি সবার উর্ধ্বে নিয়ম নীতির ধার ধারে না উম্মে হাবিবা। সামনের দিনগুলি যে কণ্টকাকীর্ণ তা তার বোধে হয়তোবা ছিল না। উম্মে হাবিবার জানা ছিল না যে সত্য একদিন বেড়িয়ে আসবেই। আর তার মুখোশ জনতার সামনে উন্মোচিত হবে। উম্মে হাবিবার বেলায় তাই হয়েছে।
উম্মে হাবিবার ব্যাপারে আমরা চমকপ্রদ তথ্যে জানতে পেরেছি যে, ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে তিনিও সাথে সাথে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং তিন মাস পর কর্মস্থলে ফিরে আসে। তার প্রতিদিনের স্বাক্ষর বহিতে সেই প্রমাণ মিলেছে। হাজিরা খাতায় তার কোনো স্বাক্ষর ছিল না বলেও জানা গেছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে উম্মে হাবিবা ট্রাস্টের ১ নং ভবনের নীচতলায় একজন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে তার সমস্ত মালামাল ওই কক্ষে এখনও স্টক করা আছে বলে জানা গেছে। লোক মুখে শোনা যায়, উম্মে হাবিবা সেই ভাড়া নিজে আত্মসাত করেছে ট্রাস্টের কোষাগারে জমা না দিয়ে।
আমাদের বিশ^ মিডিয়া প্রতিনিধি উম্মে হাবিবার গ্রামের বাড়ী লালমনিরহাট ও তার ভোটার হওয়ার এলাকা খুলনার বিভিন্ন এলাকায় খোজ খবর নিয়ে তার বেপরোয়া জীবনের ইতিহাস তুলে আনছে। যে ইতিহাস আগামী ধারাবাহিক ১০ পর্ব সংবাদ প্রকাশ করলেও শেষ করা যাবে না। আমাদের অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি ছাত্রী জীবন থেকেই উম্মে হাবিবা একরকম বেপরোয়া এবং বেয়াদপ প্রকৃতির ছিল। জীবন যাপনে কোনো নিয়ম নীতির ধারে কাছেও ছিল না। যাকে টার্গেট করছে তাকেই সে জয় করে নিজ মনোবাসনা পূর্ণ করেছে। তার চোখে যাকেই ধরেছে তাকেই সে নিশ^ঃ করে ছেড়েছে। আমাদের হাতে এরকম বহু বহু অভিযোগ এসেছে তার অনৈতিক চরিত্র প্রসঙ্গে। যে ঘটনা আমরাও লিখতে লিখতে শেষ করতে পারছি না। এত অকল্পনীয় নোংড়া অগোছালো ঘটনা ট্রাস্টের এবং তার এলাকার সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। তার নোংড়ামী জীবনের ঘটনা শুনে সিবাই ছিঃ ছিঃ করছে। মানুষ এত নীচ হতে পারে। উম্মে হাবিবার জীবন থেকে জানা গেছে। তার জীবনের উত্থানের কিছু দুর্লভ ইতিহাস পুরুষ খেকো এই নারী সব সময় ধনী মানুষদের টার্গেট করে তাকে প্রেমের ফাদে ফেলে অর্থনৈতিকভাবে ভাঙ্গিয়ে স্বার্থ হাসিল করে কেটে পড়ে। বহুরূপী উম্মে হাবিবা বহু মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকার উপরে ধার করার কথা বলে হাতিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। উম্মে হাবিবা তিনি তার স্বামী হানিফার কাছ থেকে যতটুকু ভালোবাসা বা সম্মান পাওয়ার কথা তাও তিনি পান না বলে জানা যায়। তাই তিনি বেছে নিয়েছেন বেপরোয়া উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন। আর চাকরি জীবনে তার দুনম্বরী করে ভুয়া তথ্য দিয়ে চাকরি বাগিয়েছে। হাবিবা তার জীবনের সাথে জড়িয়ে পরকিয়ার ফাঁদে ফেলে অনেক মানুষকে তিনি নিশ^ঃ করে পথে বসিয়েছেন বলেও এরকাধিক অভিযোগে জানা গেছে। তাই তিনি নিজ দাম্পত্য জীবনেও বেশ সুখী নয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, ছবিতে আমরা লক্ষ্য করেছি তার নেশার রাজ্যের কথা, তিনি এমন কোনো মাদক নেই যা সেবন করেন না। তার ছবিতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ভয়াবহ মাদক সেবনের কল্প কাহিনী। তিনি নৌকায় বসে কি মধুর সুখ টান দিচ্ছেন গাঞ্জায়। এখানে বলার অপেক্ষা রাখে না তিনি বাস্তব জিবনে এবং দাম্পত্য জীবনে কতটা অসুখী।
বিভিন্ন অভিযোগে জানা গেছে, চাকরিতে প্রবেশের পর তার সার্ভিস বই তৈরি হয়নি, তার এসিআর রিপোর্ট তন্ন তন্ন করেও হদিস পাওয়া যায়নি, তার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স লালমনিরহাট পুলিশ সুপার অফিসে পেন্ডিং আছে বলেও জানা যায়। উম্মে হাবিবা এক ভেজাল আত্মজীবনের দাপুটে নারী হিসেবে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছে তার আত্মসম্মান বোধ একটু কম। তা না হলে ভুয়া তথ্যের খবর সর্বত্র চাউর হওয়ার পরও সে দাপটের সাথে চাকরি করে এতিমখানার বরাদ্ধ গরীবের টাকা তছরুপ করছে। এটা সবার মাঝে এখন আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে ট্রাস্টে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে। বিশ^ মিডিয়া এবং বিভিন্ন মিডিয়া পত্রিকায় তার দুর্নীতির কুর্কীতি প্রকাশ পেলে সবাই ফোন করে আমাদের পরবর্তী সংখ্যায় কি চমক থাকছে এসব নিয়ে জানার আগ্রহে ফোন করে সবাই জানতে চায়। তাই জনতার সম্মুখে সবই আজ খোলামেলাভাবে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে। কে পড়াবে বেড়ালের গলায় ঘণ্টা।
অভিযোগে জানা যায়, উম্মে হাবিবা ট্রাস্টের এতিম বাচ্চাদের নি¤œমানের মোটা চাল, মোটা লবন, খোলা তেল, খোলা আটা দিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে সাপ্লাই দিয়ে কমিশন বাণিজ্য করে থাকেন বলেও জানা গেছে।
সাবেক পতিত সরকারের দুর্নীতিবাজ সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের বিরুদ্ধে তাঁর মন্ত্রণালয়ের অধীনে চারজন নিকট আত্মীয়কে ভুয়া সনদে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিধি মোতাবেক যোগ্যতা না থাকলেও ভুয়া সনদপত্র দিয়ে মন্ত্রীর আত্মীয়ের ‘যোগ্যতায়’ নিয়োগ পান তাঁরা।চার অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের স্ত্রীর বড় ভাইয়ের মেয়ে উম্মে হাবিবা, মন্ত্রীর মামাতো ভাইয়ের মেয়ে আরিফা খানম ও তাঁর স্বামী নুরুল আলম হবু এবং মন্ত্রীর মামাতো ভাইয়ের ছেলের বউ আমিনা খাতুন।
সচিব বরাবর পাঠানো জেলা প্রশাসকের পত্র সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে নুরুজ্জামান আহমেদ প্রথমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরের দফায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে তাঁর মন্ত্রণালয়ের অধীনে সব প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের আত্মীয়স্বজনকে চাকরি দিয়েছেন। এসব নিয়োগ ও যোগদানে মানা হয়নি চাকরির বিধিবিধান।
অভিযোগে বলা হয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ান ট্রাস্টের (বাংলাদেশ) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ক্ষমতার প্রভাবে নিজের আত্মীয়দের নিয়োগ দেন এই মন্ত্রী। ট্রাস্টের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগে স্নাতকোত্তর পাস সনদ আবশ্যক হলেও গত ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি নিয়োগ পান মন্ত্রীর শ্যালকের মেয়ে এইচএসসি পাস উম্মে হাবিবা। পরবর্তীকালে দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস একটি সনদ দাখিল করেন। ৬ মাসের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দাখিল করা হবে মর্মে অঙ্গীকারনামা দিলেও এখনো সনদ দাখিল করেননি। অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা উম্মে হাবিবাকে পরবর্তীকালে মিরপুর আল নাহিয়ান শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক পদে অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়। কিন্তু বিধিমতে এই পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকার কথা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার।
সূত্রে জানা যায়,পরে উম্মে হাবিবা মন্ত্রীর ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে ট্রাস্টের ফ্ল্যাট ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ করেন। এদিকে তাঁর অবৈধ নিয়োগ বাতিল ও বিচার চেয়ে ট্রাস্টের কর্মচারীরা লিখিত অভিযোগ করেছেন।
একই পন্থায় ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদে আল নাহিয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে গত ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি নিয়োগ পান মন্ত্রীর মামাতো ভাইয়ের ছেলের বউ আমিনা খাতুন। তাঁর পদে স্নাতকোত্তরসহ বিএডএমএড আবশ্যক। কিন্তু তিনিও বিএড এমএড সনদ ছাড়াই নিয়োগ পান। একই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ২০১৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান মন্ত্রীর মামাতো ভাইয়ের মেয়ে আরিফা খানম। তিনি স্নাতক পাস করলেও তাঁর বিএড সনদ ভুয়া। এ ছাড়া আরিফা খানমের স্বামী নুরুল আলম হবুও যোগদানের তারিখ জালিয়াতি করে পদোন্নতি নিয়ে হয়েছেন লালমনিরহাট বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। সেই পদোন্নতিও মন্ত্রীর ক্ষমতার প্রভাবে যোগদানের তারিখ ২১ সাল থেকে ২০০৮ সাল দেখানো হয়। তবে কোনো পদোন্নতি হয়নি বলে দাবি করে নুরুল আলম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের জমি জবরদখলের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, তিনি মন্ত্রীর আত্মীয় বলেই সব অযোগ্যতাই যোগ্যতা বলে বিবেচিত হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উম্মে হাবিবা বলেন, ‘সনদ দাখিলের অঙ্গীকারনামা দিয়ে যোগদান করেছি ঠিক, তবে সময় উল্লেখ ছিল না। আর পূর্বে যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলাম, সেখান থেকে অভিজ্ঞতার সনদ প্রদানে বিলম্ব করায় আমি অঙ্গীকারনামা দিয়েছিলাম। মন্ত্রীর আত্মীয়ের সুবাদে চাকরি হয়নি, যোগ্যতায় চাকরি হয়েছে। ট্রাস্টের কর্মচারি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মোছাঃ উম্মে হাবিবার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন অপসারণ করা হচ্ছে না। উম্মে হাবিবা কার অদৃশ্য শক্তির বলে এখনও ট্রাস্টে বহাল তবিয়তে চাকরি করছে তা নিয়ে সবার মাঝে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। উম্মে হাবিবার মতো এরকম অযোগ্য লোক দিয়ে যদি প্রশাসনে কাজ চালানো হয় তাহলে, জুলাই বিপ্লব বৃথা যাবে আর আমাদের এই বাংলাদেশ কোনদিন ফ্যাসিস্ট মুক্ত হবে না বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। চলবে———–