কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
নূরে আলম (শাহারিয়ার)
প্রতিনিধির প্রশ্ন ছিল ( কেন ? কি ? কিভাবে ? ) তারই ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হলো।
ডাক্তার শফিক সাহেব কেন ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মেনে নিল ?
পিরোজপুর-২ এ দেলোয়ার হোসেন সাইদির এক ছেলে জিতলে ও অন্য ছেলেকে মাত্র ৭০ ভোটে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২৫০০ পোস্টাল ব্যালট বাতিল বানিয়ে ৯২৯ ভোটে হারিয়ে দেয়া হইছে কক্সবাজার টেকনাফের নূর আহমদ আনোয়ারীকে। খুলনাতে মিয়া গোলাম পরোয়ারকে মাত্র ২০০০ ভোটে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। জামায়াত ৫০০০ এর কম ভোটে হেরেছে এমন আসনের সংখ্যা ৫৩ টি। মূলত এই ৫৩ টি আসনে কারচুপি করে হারানো হয়েছে জামায়াতকে ॥ জামাত প্রকৃত পক্ষে ১৩৫ টি আসনে জিতেছে। কিন্তু ডিপ স্টেট সংখ্যা কমিয়ে ৭০-৮০ টি দিতে চাচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে ডাক্তার শফিক কি করছেন?
ডাক্তার শফিক আমেরিকার রেড লাইন অতিক্রম করে ক্ষমতা গ্রহণের ঝুকি নিতে চাচ্ছেন না। কারণ ইসলামিস্টরা যখন আমেরিকার দেওয়া রেড লাইন অতিক্রম করে, তখন তার পরিণতি কি হতে পারে তা মিশর , তিউনেশিয়া দেখে প্রমাণিত। এছাড়া জামাত ১৭ বছর অনেক জুলুমের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। কর্মীরা কেবল মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে শুরু করেছে। সংগঠনের বিকাশের জন্য সময় দরকার, মুক্ত পরিবেশ দরকার।
তাই ডাক্তার শফিক ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মেনে নিয়েছে। এটা অনেক বড় ত্যাগ। আমরা যারা অনলাইন এক্টিভিস্ট আছি তারা ব্লেম দিচ্ছি যে জামাত কেন আন্দোলন করছে না। আন্দোলন করে কি হবে? মিডিয়া, সেনাবাহিনী, আমেরিকা, ভারত সবাই এক পক্ষে। এই বিশাল শক্তি জামাতকে দমন করে দিবে। এছাড়া জামাত এতটা জনপ্রিয় দল না যে সাধারণ জনতা রাস্তায় নেমে আসবে। জামাত যে ভোট পেয়েছে, এই ভোটারের বড় অংশই জামাতের আদর্শকে ধারণ করে না।
তাই জামাত সময় নিতে চাচ্ছে। রাজনীতি তো একদিনের জন্য না। জামাতের আপাতত লক্ষ্য হল সিটি নির্বাচন। জামাত তৃণমূলে সংগঠন শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিবে। তাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মেনে নিচ্ছে। ডাক্তার শফিক অহেতুক শক্তি খরচ করার লোক না। তিনি ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেবার পরে লীগের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলনে গিয়ে শক্তি খরচ করেন নাই। একবারে চূড়ান্ত আন্দোলনে শক্তি খরচ করেছেন।
কিভাবে একজন বিচক্ষণ জেনারেলের কাজ। আপাতত ডিপ স্টেট যতটুকু আগাতে দিয়েছে, ততটুকুতেই জামাত তার অবস্থান সংহত করতে চাইছে।