মোঃ বজলুর রহমান
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বি.কে.জি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রথম পুনর্মিলনী আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬, ঈদের ৪র্থ দিন) উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে বিভিন্ন ব্যাচের শতাধিক প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন পর একত্রিত হয়ে তারা স্মৃতিচারণ, বন্ধুত্বের বন্ধন পুনর্গঠন এবং প্রাণবন্ত আড্ডায় মেতে ওঠেন, যা পুরো অনুষ্ঠানকে এক মিলনমেলায় পরিণত করে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জনাব সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাদ) কৃষ্ণপুর ইউপির সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ মামুনুর রশিদ।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ২০০৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জনাব তারিকুল ইসলাম স্বপন। সঞ্চালনায় ছিলেন মোজাফফর হোসেন ও খালেদ মাহমুদ মিন্টু, যারা দক্ষতার সাথে পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অতিথিরা বলেন, এ ধরনের পুনর্মিলনী শুধু পুরনো স্মৃতিকে জাগ্রত করে না, বরং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণে অনুপ্রাণিত করে। তারা বিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।পুনর্মিলনী উপলক্ষে গঠিত সম্মানিত উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ চান্দু দারোগাসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ—প্রবীর কুমার মন্ডল, বিপ্লব হোসেন সেলিম (চেয়ারম্যান, কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ), খালেদ মাসুদ আহমেদ, আব্দুল মান্নান দেওয়ান, বাহাদুর বেপারী, মতিউর রহমান মতি, লুৎফর রহমান লাল মিয়া, আকবর দেওয়ান, আব্দুল হাই বেপারী, আব্দুল হালিম বেপারী, পান্নু মোল্লা (অভিভাবক সদস্য) এবং শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ সিরাজুল ইসলাম।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন ব্যান্ড শিল্পী লালন কণ্যা সুমি। তার পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শহিদ বেপারী, শাহিনুর আলম, আব্দুল আলীম (আলী), জলিল মিয়া ও আলীম বেপারী।প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ করা যায়। পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল আনন্দ, আবেগ আর নস্টালজিয়ার এক অনন্য মিশেল।আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব তানিয়া নাজনীন জানান, “প্রথমবারের মতো এমন একটি আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে এ ধরনের পুনর্মিলনী আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই পুনর্মিলনী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করবে এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়নে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।