নিজস্ব প্রতিবেদক,বরগুনা
বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক সাধারণ নির্বাচন সাময়িক ভাবে স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১০ এপ্রিল নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। বুধবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আইনজীবী আবদুল লতিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।জানা যায়, প্রধান নির্বাচন কমিশন ৮ মার্চ সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ ১৫টি পদের জন্য নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেন। আজ বুধবার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। এরই মধ্যে ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনারের নামে জনৈক অ্যাডভোকেট মো: মাজেদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি নির্বাচন বন্ধ করার জন্য ২৪ মার্চ ডাকযোগে দাফনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকি দিয়েছে। একটি চিরকুটে লেখা ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগের পাতানো নির্বাচন বন্ধ কর। নতুবা তোমাদের পরিণতি সাদা কাফন।এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকার প্রান নাশের হুমকি আসতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন আগামী ১০ এপ্রিলের নির্বাচন স্থগিত করেন। প্রধান নির্বাচন নির্বাচন বন্ধ করে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ১০ এপ্রিলে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রকমের অপ্রীতিকর, অরুচীপূর্ণ, শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ এবং নির্বাচন অনুষ্ঠান হতে না দেওয়ার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে হুমকী আসতে থাকা, নির্বাচনের দিন ভয়ানকরূপে প্রতিরোধ করার হুমকী প্রদর্শন করা, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের প্রতি ডাক বিভাগের জিইপি চিঠির মাধ্যমে ও বাসভবনের ভিতরে দরজার নীচ দিয়া জীবনাশের হুমকী সম্বলিত চিঠি প্রদান করার প্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠান করা আদৌ সম্ভব নয়। তাই সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আগামী ১০ এপ্রিলের নির্বাচন “সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো।এই নির্বাচনে বিএনপি থেকে সভাপতি পদে চারজন ও স্বতন্ত্র একজন নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপি থেকে দুইজন, জামায়াত থেকে একজন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা একজন নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বন্দিতা করতে ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো: হুমায়ূন কবির পল্টু বলেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচনের প্রচার চলছিল। নির্বাচন কমিশনকে উড়ো চিঠি দিয়েছে এ কারনে তারা নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে। আমি মনে করি তারা ভিতু প্রকৃতির লোক। এমন ও হতে পারে নির্বাচন কমিশন কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে নির্বাচন বন্ধ করেছে। সভাপতি প্রার্থী মো: সিদ্দিকুর রহমান পান্না বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচনের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। কোথাকার কে উড়ো চিঠি দিয়ে দাফনের কাপড় পাঠিয়ে নির্বাচন কমিশনকে হুমকি দিয়েছে। তাতে তারা নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে। আমি মনে করি এটি নির্বাচন কমিশনের পাতানো খেলা। উড়ো চিঠিতে একটি ফোন নম্বর দেওয়া আছে সেই নম্বরটি জনৈক সুমন নামের। একটি দলের একাধিক প্রার্থী হয়েছে। তারা নির্বাচনে হেরে যাবেন, এ কারনে তাদের মদদে নির্বাচন কমিশন হঠাৎ করে নির্বাচন সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো: জাফর ইকবাল বলেন, নির্বাচন কমিশনার কোনো প্রার্থীর সঙ্গে আলোচনা না করে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া তাদের এখতিয়ার নেই। কোনো নির্বাচন কমিশনার ভয় পেলে সে পদত্যাগ করতে পারেন। তারা প্রশাসনকে জানাতে পারতেন। কার পরামর্শে নির্বাচন বন্ধ করেছে আমরা জানি না।নির্বাচন কমিশনার আবদুল মজিদ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল লতিফ মিয়া কারো সঙ্গে আলোচনা না করে একটি উড়ো চিঠির বরাত দিয়ে নির্বাচন বন্ধ করতে পারেন না। তিনি ভয় পেলে পদত্যাগ করতে পারতেন। এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল লতিফ মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।