1. admin@bishwamedia.com : Main :
  2. news@bishwamedia.com : Bishwa Media : Bishwa Media
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জামালপুর সরিষাবাড়ীতে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এলাবাসীর মানববন্ধন বেতাগীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উদযাপন পুলিশের হাত থেকে হাতকড়া সহ পালিয়ে ও নিস্তার পায়নি আলী হোসেন, আত্মীয় জিম্মি করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ। বরগুনায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত বরগুনায় সামাজিক বনায়নের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ ডাকযোগে দাফনের কাপড়বরগুনা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সাময়িক ভাবে স্থগিত ইমাদ ও পালকি পরিবহনকে জরিমানা বি.কে.জি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১ম পুনর্মিলনী উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি লক্ষ্য রেখে নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিচ্ছেন নিজ ব্যানার ও ফেস্টুন চুনারুঘাট সীমান্ত দিয়ে ২ ভারতীয় নাগরিককে হস্তান্তর

বরগুনায় সামাজিক বনায়নের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,বরগুনা

বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের ধূপতি মনসাতলী গ্রামের সরকারি রাস্তার পাশে সামাজিক বনায়নের গাছের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অনিয়ম, যেনতেন পরিমাপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় উপকারভোগী, জমির মালিক ও এলাকাবাসীর দাবি বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা, বনায়ন সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ কাঠ গোপনে লোপাট করা হয়েছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি প্রকৃত উপকারভোগীরাও বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে বনবিভাগ অভিযোগ অস্বীকার করেন।জানা যায়, ওই এলাকার খাকধোন নদীর উত্তর পাড়ে বেড়িবাঁধে মনসাতলী এলাকায় সুধাংশুর বাড়ি থেকে হোসেন শরীফের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০টি বিভিন্ন জাতের গাছের চারা রোপণ করা হয়। গাছ গুলোর মধ্যে ছিল রেন্ট্রি, মেহগনি, শিশু, চাম্বল, অর্জুন, আকাশমনি, কড়ই, করমজা, খইয়াবাবলা, পিটালি ও খয়ের। ওই সময় এ প্রকল্পের সুবিধাভোগী হিসেবে স্থানীয় ৩২ জনকে নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। সভাপতি ছিলেন মো. আব্দুল আজিজ খান।প্রচলিত সামাজিক বনায়ন নীতিমালা অনুযায়ী এসব গাছ বিক্রির অর্থের ৬৫ শতাংশ পাবেন উপকারভোগীরা। এছাড়া ১০ শতাংশ এনজিও, ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগার এবং ৫ শতাংশ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলে জমা হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ঘিরে ওঠা অভিযোগে স্থানীয়দের বিস্তর অভিযোগ। প্রকৃত হিসাব গোপন করে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।বন বিভাগের প্রস্তুত করা টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিক্রয়যোগ্য গাছের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৪৬৭টি। মোট কাঠের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫৫ দশমিক ২৯ ঘনফুট। পাশাপাশি জ্বালানি কাঠ হিসেবে আরও প্রায় ১ হাজার ৪৬৯ ঘনফুট দেখানো হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি করেন, বাস্তবে গাছের সংখ্যা সিডিউলে উল্লিখিত সংখ্যার তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ হবে।স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছ পরিমাপের সময় প্রতিটি গাছে গড়ে ১০ থেকে ১২ সিএফটি পর্যন্ত কাঠ কম দেখানো হয়েছে। ফলে সহস্রাধিক ঘনফুট কাঠ কম দেখিয়ে সরকারি রাজস্ব ও উপকারভোগীদের প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করেছে বনবিভাগ।এছাড়া আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বরগুনা বনবিভাগের বিরুদ্ধে। বনবিভাগ ৩৭৯ থেকে ৪০৩ নম্বর পর্যন্ত মোট ২৪টি মেহগনি গাছ পরিমাপ করা হলেও সেগুলো কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়াই অপসারণ করা হয়েছে। স্থানীয়জনৈক মামুন খান নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে এসব গাছ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বজনরা এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন। এসব অনিয়মকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমির প্রকৃত মালিকদের টেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মালিকপক্ষ ও ঠিকাদারদের মধ্যে বিরোধ চলমান।স্থানীয় জালাল মোল্লা বলেন, গাছ পরিমাপের সময় স্থানীয় মানুষের ব্যক্তিগত ভাবে রোপণ করা কিছু গাছেও নম্বর দিয়ে সেগুলোকে সামাজিক বনায়নের আওতায় দেখিয়েছে বনবিভাগ। আবার কেউ কেউ অর্থের বিনিময়ে নিজেদের গাছ তালিকা থেকে বাদ দিতে সক্ষম হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যেসব মালিক অর্থ দিতে পারেনি তাদের গাছ টেন্ডারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।বনায়ন কমিটির সদস্যদের পক্ষ থেকে পূর্ব ধূপতির বাসিন্দা মো. শানু খান বলেন, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। অভিযোগে টেন্ডার কার্যক্রম সাময়িক ভাবে স্থগিত রেখে গাছের প্রকৃত পরিমাপ পুনঃযাচাই, টেন্ডার ছাড়াই অপসারণ করা ২৪টি মেহগনি গাছের তদন্ত এবং পুরো প্রক্রিয়ার অনিয়ম খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। পাশাপাশি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও উপকারভোগীদের বঞ্চিত করার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন।এ বিষয়ে বরগুনা বন বিভাগের রেঞ্জ সহকারী মো. হাসান জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ীই গাছ বিক্রির জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এই টেন্ডারে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়নি। একটি মহল টেন্ডার প্রক্রিয়া বন্ধ করার উদ্দেশে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দিয়েছে। তবে উপকার ভুগিদের দাবি, বন বিভাগের রেঞ্জ সহকারী পরিচয়ধারী মো. হাসান হচ্ছে দুর্নীতি ও লুটপাটের মূল পরিকল্পনাকারী।

এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ...