নূরে আলম (শাহারিয়ার)
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংশোধনের আবেদন নিয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে চরম হয়রানি ও অসদাচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার এক ভুক্তভোগী। গত ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের সপ্তম তলায় (রুম নং এ/৭১৮) দায়িত্বরত ফারহানা বিলকিস, সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রেক্ষাপটঅভিযোগকারী কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার থানার কোরবানপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার ছেলে নূর মোহাম্মদ (এনআইডি নং: ৫৫৭৫২৭৭২৭১) এর এনআইডিতে জন্ম তারিখ ও পিতার নাম সংশোধনের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করছেন। ভুক্তভোগী জানান, তার ছেলের সঠিক জন্ম তারিখ ০১-০২-২০০৪ হলেও এনআইডিতে তা ভুলবশত ০১-০২-২০০৬ এসেছে। এছাড়া পিতার নাম ‘মোঃ আলমাছ মিয়া’র পরিবর্তে সঠিক নাম ‘মোহাম্মদ আলমাছ মিয়া’ করার জন্য তারা আবেদন করেন।বিদেশে কর্মসংস্থান ও আইনি বাধানূর মোহাম্মদের সৌদি আরবে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য এনআইডি অনুযায়ী বয়স ন্যূনতম ২২ বছর হওয়া আইনত আবশ্যক। জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স বর্তমানে সংশোধনের যোগ্য হলেও এনআইডির ভুলের কারণে তিনি বিদেশে যেতে পারছেন না। উপজেলা ও জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানানো হয় যে, এই সংশোধনের এখতিয়ার তাদের হাতে নেই এবং আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।কর্মকর্তাদের রূঢ় আচরণ ও অযৌক্তিক পরামর্শগত ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে অভিযোগকারী ও তার এক আত্মীয় নির্বাচন ভবনের ৭ম তলায় কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে দায়িত্বরত নারী কর্মকর্তা কোনো আইনি সহযোগিতা বা সমাধান না দিয়ে বরং সেবাপ্রার্থীদের সাথে অত্যন্ত রূঢ় ও অপেশাদার আচরণ করেন।অভিযোগকারী বলেন, “আমাদের সমস্যার কথা বলার পর ওই কর্মকর্তা কোনো আইনি ব্যাখ্যা না দিয়ে সরাসরি বলেন, ‘ছেলের বয়স এখন কম, তাকে দুই বছর পরে বিদেশ পাঠান।’ আমরা বারবার অনুরোধ করলেও তিনি এমন ব্যবহার করেন যেন আমরা মানুষ নই। এমনকি নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমাদের অধিকারের কথা বললে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং আবেদনটি পুনরায় গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।”সেবা প্রত্যাশীদের ক্ষোভ জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের মতো একটি নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের এমন ‘অযৌক্তিক পরামর্শ’ এবং ‘ভয়ভীতি প্রদর্শনে’ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হওয়ায় তারা এখন দিশেহারা। যথাযথ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন এই হয়রানি করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।