(দোকান ও মামলার কপির ছবি সংযুক্ত)
মো. সফর মিয়া, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গরা বাজারে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় স্থানীয়দের হাতে অবরুদ্ধ হওয়া এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তাঁর স্বজনদের পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁদেরই গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজারের একটি সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে জিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল্লাহ রবি ও তাঁর সমর্থকেরা কাজ শুরু করেন। এ সময় বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এতে বাধা দেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষে চেয়ারম্যান রবিউল্লাহ রবি, তাঁর ভাই শফিকুল ইসলাম ও রুবেল মিয়া এবং প্রতিপক্ষের শামীম মিয়া, তাঁর ছেলে শান্ত, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা চেয়ারম্যান ও তাঁর স্বজনদের ঘিরে ফেললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—চেয়ারম্যান রবিউল্লাহ রবি (৫২), তাঁর ভাই রুবেল মিয়া (৩৮) ও মামাতো ভাই পলাশ মিয়া (৩৬)।
চেয়ারম্যান রবিউল্লাহ রবি দাবি করেন, সময়মতো পুলিশ না এলে তাঁদের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষের অভিযোগ, সরকারি জায়গায় জোরপূর্বক দোকান নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাধা দিলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় শামীম মিয়া বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় আটক তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।