নিজস্ব প্রতিনিধি “বিশ্ব মিডিয়া “নূরে আলম (শাহারিয়ার)আজ (১ জুলাই, ২০২৬)সংসদ প্রতিবেদন: অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল বেটিং প্ল্যাটফর্ম এবং ম্যাচ ফিক্সিং প্রতিরোধে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের লক্ষ্যে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। আজ (১ জুলাই, ২০২৬) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। নতুন এই আইনে জুয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের জন্য কঠোর কারাদণ্ড, বিপুল অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের যুগোপযোগী বিধান রাখা হয়েছে।আইন পরিবর্তনের পটভূমি ও প্রয়োজনীয়তাবিলটি উত্থাপনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া কার্যক্রমের দ্রুত বিস্তার ও এর সামাজিক ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন আইনটি প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল।ডিজিটাল রূপান্তর: জুয়া এখন আর কেবল প্রচলিত শারীরিক আসরে সীমাবদ্ধ নেই। এটি স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।পুরোনো আইনের সীমাবদ্ধতা: ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত ‘পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর ও জটিল জুয়া নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তাই যুগের চাহিদার সাথে সংগতি রেখে আইনটি সম্পূর্ণ আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে।নতুন আইনের মূল দিক ও সংজ্ঞা।নতুন পাস হওয়া ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’-এ অপরাধের পরিধি নির্ধারণে বেশ কিছু আধুনিক ধারণার সুস্পষ্ট আইনগত সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:ডিজিটাল জুয়া ও অনলাইন বেটিং: সব ধরনের অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বেটিং এবং ওয়েজারিং প্ল্যাটফর্ম।আর্থিক লেনদেন: ডিজিটাল সম্পদ (ক্রিপ্টোকারেন্সি ইত্যাদি) এবং ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন।খেলোয়াড় ও বুকমেকার: টোটালাইজেটর এবং পেশাদার বুকমেকারদের কার্যক্রম।ক্রীড়া অপরাধ: ক্রীড়াঙ্গনে সততা বজায় রাখতে ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংকে এই আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির বিধান করা হয়েছে।