দুলাল ফেরদৌস বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বেশি বেশি মাছ চাষ করি, বেকারত্ব দূর করি’ এবং ‘বৈধ জালে দিয়ে মাছ ধরি, ইলিশ উঠাবে জাল ভরে’— এ সব প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনার বেতাগীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬’।উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেতাগী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ, সাদ্দাম হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান এবং বেতাগী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন খান।অনুষ্ঠানে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ, সাদ্দাম হোসেন বলেন, “বেতাগী উপজেলায় নদী ও জলাশয়ের প্রাচুর্য রয়েছে, যা আমাদের মৎস্য সম্পদের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা এবং জাটকা সংরক্ষণ কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি সফল করতে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

আধুনিক ও প্রযুক্তিভিত্তিক মাছ চাষের বিস্তার ঘটিয়ে যুবসমাজকে এই খাতে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে একদিকে যেমন বেকারত্ব দূর হবে, অন্যদিকে দেশের প্রোটিনের চাহিদাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “প্রাকৃতিক জলাশয় ও খাস পুকুর রক্ষা এবং অবৈধ দখলমুক্ত রাখা টেকসই মৎস্য উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসরণ করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। নদী ও জলাশয়ে বেআইনিভাবে অবৈধ জাল পেতে বা বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”আলোচনা সভা শেষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে উপজেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষী ও মৎস্যজীবীদের মাঝে সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ বছর জাতীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সেরা মৎস্যজীবীর প্রধান পুরস্কার লাভ করেন হারিসুজ্জামান (হেলাল)।এর আগে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয় । অনুষ্ঠানে স্থানীয় মৎস্যজীবী, সাংবাদিক ও সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।