সালাউদ্দীন শাহিন,বাঘাইছড়ি প্রতিনিধিঃ
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় শান্তি ও সম্প্রীতি উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি) এর উদ্যোগ্যে স্থানীয় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পাহাড়ী বাঙ্গালীদের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বাঘাইছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পেইন” এর আয়োজন করা হয়। মেডিকেল ক্যাম্পেইনে স্থানীয় জনগণকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ, ওষুধ বিতরণ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। উক্ত কর্মসূচিতে অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত ২৫০ জন পাহাড়ী এবং ৫০ জন বাঙ্গালীদের চিকিৎসা সেবাসহ বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ করা হয়। বর্ণিত ক্যাম্পেইনে মারিশ্যা জোনের মেডিক্যাল অফিসার মেজর অমিত কুমার সাহা কর্তৃক রোগীদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করেন। ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময় মারিশ্যা জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন তুলে বাঘাইছড়ি এলাকার ৭৫ বছর বয়সী বাসিন্দা বিনয় লাল চাকমা গত ০৯ মাস যাবৎ অসুস্থতা জনিত কারনে শয্যাশায়ী থাকায় মারিশ্যা জোনের জোন কমান্ডার ও মেডিক্যাল অফিসারসহ মেডিকেল টিম তাঁর বাড়িতে গমন করতঃ তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করা হয়। যা স্থানীয় পাহাড়ীদের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।পরিশেষে, জোন কমান্ডার কর্তৃক বাঘাইছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিলনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাকুয্যাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেংগুমাছড়া জুনিয়র স্কুল, দোসরমুখ জুনিয়র স্কুল ও উগলপুল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া কার্যক্রমে উৎসাহিত ও সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে মোট ০৮টি ফুটবল, ১৬টি ব্যাডমিন্টন ব্যাট, ০৪টি কক এবং ০৪টি ব্যাডমিন্টন নেট বিতরণ করা হয়। মারিশ্যা জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসসি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে আমাদের এই উদ্যোগ। সমাজের সকল মানুষ বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকার। এই মেডিকেল ক্যাম্পেইন সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি অংশ।
আজকের ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মানুষের যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আমরা পেয়েছি তা ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ আকারে সেবামূলক কার্যক্রম চালানোর অনুপ্রেরণা যোগাবে। উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে শান্তি ও সম্প্রীতি উন্নয়ন আরও সুদৃঢ় হবে। এছাড়াও কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।