সিলেট অফিস : সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক দিয়ে ভারতীয় জিরার চালানের আঁড়ালে মাদক দ্রব্যসহ ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য চোরা চালানের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি, প্রতিদিন শত শত ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পণ্যবাহী যান বাহনের মাধ্যমে দেশের ভেতরে ভারত সীমান্ত থেকে বিভিন্ন পথে অবৈধ পণ্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে|
অভিযোগ রয়েছে, অনেক ট্রাক কিংবা কাভার্ড ভ্যানের ওপরে বালু বা পাথর দিয়ে আঁড়াল করে নিচে ভারতীয় জিরা, মানব ক্ষতিকর মাদক দ্রব্যসহ অন্যান্য অবৈধ পণ্য সামগ্রী বহন করা হচ্ছে।
একইভাবে বড় বড় কাভার্ড ভ্যানেও নিয়মিত চোরা চালান চলছে বলে দাবি স্থানীয় নাগরিকদের। তাদের অভিযোগ, মাঝে-মধ্যে দু’ একটি যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আটক বা গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ অবৈধ চালান নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যু দন্ডের মতো কঠিন আইন করা হলেও এশিয়ার বৃহত্তম সড়ক সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের কোনো উন্নতি হয়নি।
স্থানীয় নাগরিকদের ভাষ্য, দেশের ভেতরে ভারত সীমান্ত থেকে সিলেট নগর পর্যন্ত পুরো রুটে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত তল্লাশি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন’, ”চোরা চালানের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স অব্যাহত রয়েছে। আমরা এ ধরনের কোন সংবাদ পেলে তাড়া তাড়ি পদক্ষেপ নিচ্ছি।
“শাহপরান (রহ:) থানার ওসি ফেরদৌস আহমদ বলেন, চোরা চালান যে হচ্ছেনা আমরা তা উড়িয়ে দিচ্ছি না। তবে মাদকদ্রব্য সহ চোরা চালানের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের পুলিশের অভিযান অব্যাহত রেখেছি।
সচেতন মহলের দাবি, সীমান্ত ও মহাসড়ক জুড়ে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর নজরদারি, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।