যে পেশাটিকে নিয়ে সমাজে কখনো কখনো নানা নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়, সেই চিকিৎসা পেশাতেই মায়াবী হাত, মানবিক মন ও সেবার মানসিকতা দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করে চলেছেন ডা. নাবিল জুনায়েদ সিডনী।
চিকিৎসক মানেই শুধু রোগ নির্ণয়, ওষুধ দেওয়া কিংবা অস্ত্রোপচার করা নয়—একজন প্রকৃত চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো মানুষের কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো। রোগীর শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি তার মানসিক যন্ত্রণা বোঝা এবং তাকে সাহস জোগানো। সেই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই কাজ করে চলেছেন শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের চিকিৎসক ও স্বনামধন্য অর্থোপেডিক ও স্পাইন সার্জন ডা. নাবিল জুনায়েদ সিডনী।
অর্থোপেডিক ও স্পাইন সার্জন হিসেবে তিনি প্রতিনিয়ত মানুষের ভাঙা হাড়, মেরুদণ্ডের জটিলতা ও নানা শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাঁর কাজের পরিধি কেবল চিকিৎসাসেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, রোগী ও স্বজনদের সাহস দেওয়া এবং প্রয়োজনের সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি একজন চিকিৎসকের মানবিক পরিচয়ও তুলে ধরছেন।
তাঁর মানবিকতার আরেকটি নীরব অধ্যায় হলো—অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ, অসচ্ছল মানুষের প্রয়োজন, চিকিৎসার ব্যয় কিংবা বিপদে পড়া পরিবারের পাশে তিনি অনেক সময় নীরবে অর্থ সহায়তা করে থাকেন। সবচেয়ে প্রশংসনীয় বিষয় হলো, এসব সহযোগিতার অনেকটাই তিনি প্রচার বা প্রকাশের আলোয় আনতে চান না। মানুষের উপকার করাটাই তাঁর কাছে মুখ্য; নিজের পরিচয় বা অবদানের প্রচার নয়।
কেউ হয়তো চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পারছেন না, কেউ হয়তো অসুস্থ স্বজনের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন, আবার কোনো মানবিক উদ্যোগে প্রয়োজন হয়েছে সহযোগিতার—এমন পরিস্থিতিতে সামর্থ্য অনুযায়ী তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর এই সহায়তা নীরবে পৌঁছে গেছে প্রকৃত প্রয়োজনের মানুষের কাছে। প্রচারের আড়ালে থেকে মানুষের জন্য কিছু করার এই মানসিকতাই তাঁর মানবিক চরিত্রকে আরও মহৎ করে তোলে।
কারণ দান তখনই সবচেয়ে সুন্দর হয়ে ওঠে, যখন তার বিনিময়ে প্রশংসা কিংবা পরিচিতি পাওয়ার প্রত্যাশা থাকে না। মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করা, একটি অসহায় পরিবারের মুখে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া কিংবা কারও চিকিৎসার পথ সহজ করে দেওয়াই যখন উদ্দেশ্য—তখন সেই সহায়তা হয়ে ওঠে নিঃস্বার্থ মানবতার এক অনন্য প্রকাশ।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবায় তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। আহতদের পাশে দাঁড়ানো, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জটিল অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসাসেবা প্রদানের মাধ্যমে তিনি মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আহত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর এই ভূমিকা প্রমাণ করে—একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব কেবল হাসপাতালের নির্দিষ্ট কক্ষ কিংবা অপারেশন থিয়েটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের প্রয়োজনে যেখানে সেবা দরকার, সেখানেই একজন প্রকৃত চিকিৎসকের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক রোগীর কাছে ডা. নাবিল জুনায়েদ সিডনী শুধু একজন চিকিৎসক নন; তিনি হয়ে উঠেছেন আস্থার জায়গা, ভরসার মানুষ। তাঁর অমায়িক আচরণ, রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, চিকিৎসা সম্পর্কে সহজভাবে বোঝানো এবং বিপদের সময়ে মানসিকভাবে পাশে থাকার বিষয়গুলো রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তাঁর প্রতি আলাদা একটি আস্থা তৈরি করেছে।
একজন মানুষের শরীরের ভাঙা হাড় জোড়া লাগানো যেমন চিকিৎসকের দক্ষতার পরিচয়, তেমনি একজন অসহায় মানুষের মনে আবার বেঁচে থাকার সাহস ফিরিয়ে দেওয়া একজন চিকিৎসকের মানবিকতার পরিচয়। আর যখন সেই চিকিৎসক নিজের সামর্থ্য দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান, নীরবে আর্থিক সহযোগিতা করেন এবং বিনিময়ে কোনো প্রচার প্রত্যাশা করেন না—তখন তাঁর মানবিক পরিচয় আরও গভীর হয়ে ওঠে।
বর্তমান সময়ে চিকিৎসা পেশা নিয়ে নানা প্রশ্ন, সমালোচনা কিংবা ভুল ধারণা থাকলেও ডা. নাবিল জুনায়েদ সিডনীর মতো চিকিৎসকদের মানবিক কর্মকাণ্ড সেই পেশার ইতিবাচক দিকটিই সামনে নিয়ে আসে। তাঁরা মনে করিয়ে দেন—চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়; এটি মানুষের জীবন ও স্বপ্ন রক্ষার এক মহান দায়িত্ব।
নিজের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নীরবে কাজ করে যাওয়া এমন মানুষগুলোই সমাজের প্রকৃত সম্পদ। তাঁদের সেবার মূল্য শুধু অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা যায় না; একজন রোগীর সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে যাওয়া, একটি পরিবারের মুখে হাসি ফেরা, একজন অসহায় মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা হওয়া কিংবা একজন বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের সবচেয়ে বড় অর্জন।
ডা. নাবিল জুনায়েদ সিডনীর মতো মানবিক চিকিৎসকদের পথচলা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার। তাঁর দক্ষতা, আন্তরিকতা, অমায়িক ব্যবহার, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নীরবে সহযোগিতার এই মানসিকতা চিকিৎসা পেশার প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করবে—এমনটাই প্রত্যাশা।
মানবিক চিকিৎসক হিসেবে মানুষের পাশে তাঁর এই পথচলা আরও দীর্ঘ হোক। তাঁর হাত ধরে আরও অসংখ্য মানুষ ফিরে পাক সুস্থতা, স্বস্তি ও নতুন জীবনের আশা। তাঁর নীরব সহযোগিতার হাত পৌঁছে যাক আরও অনেক অসহায় মানুষের কাছে।
বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক
অর্থোপেডিক, ট্রমা ও স্পাইন সার্জারি
শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা:
• আর্থ্রোপ্লাস্টি (জয়েন্ট প্রতিস্থাপন সার্জারি)
• অর্থো-অনকোলজিক্যাল সার্জারি
• ট্রমা সার্জারি
• আর্থ্রোস্কোপি
• মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি (MIS)
• স্পাইন সার্জারি
• পেলভিক সার্জারি