1. admin@bishwamedia.com : Main :
  2. news@bishwamedia.com : Bishwa Media : Bishwa Media
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হরিরামপুরে পর্যটকের ওপর হামলা-লুট, গ্রেপ্তার ৪ ইউপি নির্বাচনে মেম্বার হিসাবে কবির হোসেনকে দেখতে চায় এলাকাবাসী ঝালকাঠিতে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, মারধর, চাঁদা দাবী এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন সিলেট বোর্ডে মাহদী গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে ঈদগাঁওয়ে এসএসসি-দাখিলে জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধিত সিলেট তামাবিল সড়কে ভারতীয় জিরার আঁড়ালে মাদক আসছে: চোরাচালানের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স অব্যাহত! মানিকগঞ্জে ১৮ প্রতিবন্ধী পরিবার পেল হুইল চেয়ার বাঘাইছড়ি উপজেলা এডমিনিস্ট্রেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাফল্য‎‎‎ মানবিকতার আরেক নাম ডা. নাবিল জুনায়েদ সিডনী— সন্ন্যাসী হত্যার সংবাদ প্রকাশ: কক্সবাজারে সাংবাদিককে হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

সন্ন্যাসী হত্যার সংবাদ প্রকাশ: কক্সবাজারে সাংবাদিককে হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

শেফাইল উদ্দিন,কক্সবাজার

চাঞ্চল্যকর সন্ন্যাসী হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কক্সবাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন কর্মরত সাংবাদিকরা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৪টায় কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে কক্সবাজার পৌরসভা চত্বর থেকে সাংবাদিকদের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে হুমকি, হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

সাংবাদিক জয় বৈদ্যর সঞ্চালনায় এবং ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজার (ক্র্যাক)-এর সভাপতি জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ক্র্যাকের সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল ২৪-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি আজিম নিহাদ, সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি আজিজ রাসেল, মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজারের সভাপতি মোজাম্মেল হক, গ্রীন টিভির কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ খান, নিউজ ২৪-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি ইরফান উদ্দিন, খেলাঘর কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক এম. জসিম উদ্দিন এবং দৈনিক কক্সবাজারের স্টাফ রিপোর্টার তাজুল ইসলাম পলাশসহ অনেকে।

এ সময় সাংবাদিক শংকর বড়ুয়া রুমি, মুহিব উল্লাহ মুহিব, সিরাজুল ইসলাম আজাদ, মিজানুর রহমান, জাহেদ হোসেন, তানভিরুল মিরাজ রিপন, আব্দু শুক্কুর, ওসমান গণী এলি, আরোজ ফারুক, মোহাম্মদ আরমান, ফয়সাল রিয়াদ, আশরাফ বিন ইউছুপ, জিয়াবুল ইসলাম কাজল, আব্দু রশিদ মানিক, রিয়াজ উদ্দিন রিয়াদ, এন. এ সাগর, সাজন বড়ুয়া সাজু, মোহাম্মদ ফরিদ, আজাদ, জহির আলম বাপ্পী, আরফাত সিকদার, নেজাম উদ্দিন, রাহুল মহাজন, শাহেদ হোসেন মুবিন, ইয়াছিন আরাফাত, রিকন বড়ুয়া, মোর্শেদুর রহমান, আরিফুল ইসলাম, মুক্তাদিল জয়, আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ, সাঈদুর রহমান শিমুল, মামুন, সালাউদ্দিন, রাশেদুল ইসলাম, আরিয়ান বাপ্পী, এম. ফেরদৌস, শাহাবুদ্দিন, শফিকুর রহমান, নুরুন্নবী, স্বপন দে, মনসুর আলম মুন্না, মিশু দাশ গুপ্ত, মুরাদ, রহিম উদ্দিন, মনির, রাকিব আমির, সরওয়ার সাকিব, জালাল, শহিদুল ইমরান, ইরফান, রিয়াজ উদ্দিন, সোহেল সিকদার রানা, মুজিবুল ইসলাম নীরব, একরাম হোসাইন, হুজাইফ, আজমাইন হামিন, একরাম, কফিল উদ্দিন, শাহেদুল ইসলাম শহিদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,প্রায় তিন মাস আগে কক্সবাজারের আলোচিত নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন দৈনিক সংবাদ সারাবেলার স্টাফ রিপোর্টার ও স্থানীয় মাল্টিমিডিয়া সিজেএনের বার্তা সম্পাদক অন্তর দে বিশাল ও তার টিম।

পরবর্তীতে দীর্ঘদিন পর ওই হত্যা মামলার তদন্তে আব্দু রহিম ওরফে একপিচ্চি নামে এক আসামিকে আটক করে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। ওই আটকের সংবাদও ফলোআপ করেন সাংবাদিক অন্তর দে বিশাল।

অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনার সূত্র ধরে এক যুবক মুঠোফোনে সাংবাদিক অন্তর দে বিশালকে প্রশাসনের পরিচয়ে হুমকি দেন। তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। ওই কথোপকথনের কল রেকর্ড পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সাংবাদিক অন্তর দে বিশালের অভিযোগ, হুমকির ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে কক্সবাজার সদর থানায় গেলে তা গ্রহণ না করে পরে প্রত্যাহার করা হয়।

পরে বিষয়টি কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমানকে অবহিত করেন তিনি। সাংবাদিক অন্তর দে বিশালের দাবি, এ সময় পুলিশ সুপার তাকে জিডি করতে হবে না বলে মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে ‘আপনাকে সংবাদ কে প্রকাশ করতে বলেছে’—এমন মন্তব্যও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথোপকথনের ওই কল রেকর্ডও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কক্সবাজারে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকরা ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা বলেন, সংবাদ প্রকাশ সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। কোনো সংবাদে কারও স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে আইনগতভাবে তার প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিককে হুমকি, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তারা প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সাংবাদিক অন্তর দে বিশালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সমাবেশ থেকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা রক্ষা এবং সাংবাদিক হয়রানি ও হুমকির ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংবাদিকের কলম থামিয়ে নয়, তথ্য ও যুক্তি দিয়ে সংবাদের জবাব দিতে হবে। স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর যেকোনো ধরনের হুমকি ও চাপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলারও ঘোষণা দেন তারা।

এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ...