শুভ সমদ্দার
স্টাফ রিপোটার (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চরনী পত্তাশী এলাকায় ভোগদখলীয় জমির গাছ কেটে দখলের চেষ্টা এবং সেখানে অবকাঠামো নির্মাণের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় জিয়ানগর থানায় লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গ্রাম আদালতে মামলা করেছেন হাওলাদার মো. গোলাম মোস্তফা। এর পরিপ্রেক্ষিতে মো. বিপ্লব হোসেনকে গ্রাম আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চরনী পত্তাশী মৌজার এসএ-৫৯৫ নম্বর খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিকদের কাছ থেকে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পৃথক দুটি কবলা দলিলের মাধ্যমে মোট ৩২ শতাংশ জমি সাবকবলা নেওয়ার দাবি করেন গোলাম মোস্তফা। পরে জমিতে বালি ও মাটি ভরাট করে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গোলাম মোস্তফার অভিযোগ, গত ৩১ জুলাই মো. বিপ্লব হোসেন ওই জমিতে থাকা বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলেন। এরপর ৫ আগস্ট বিপ্লব হোসেনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫-৭ জন জমিতে অবকাঠামো নির্মাণের উদ্দেশ্যে নির্মাণসামগ্রী নিয়ে আসেন। এতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
গোলাম মোস্তফা জানান, জমিটি নিয়ে পিরোজপুরের আদালতে দুটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা ১২/১৫ নম্বরে সাবজজ-১ আদালতে এবং অপরটি ০২/২০২২ নম্বরে সহকারী জজ আদালতে চলমান।
এদিকে একই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২ নম্বর পত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতেও মামলা করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, গোলাম মোস্তফা হাওলাদারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটির নম্বর ৪/২০। এ মামলায় জবাব দেওয়ার জন্য বিপ্লব হোসেনকে সমন জারি করা হয়। সমনে ৬ আগস্ট সকাল ১০টায় গ্রাম আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে গ্রাম আদালতের সমনে বিরোধপূর্ণ জমির বিস্তারিত বিবরণ ও অভিযোগের সব বিষয় উল্লেখ নেই।
গোলাম মোস্তফা বলেন, আদালতে জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গাছ কাটা ও নির্মাণকাজের মাধ্যমে জমিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনো পক্ষ যাতে হস্তক্ষেপ করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনগত সহায়তা চান তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মো. বিপ্লব হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জিয়ানগর থানার ওসি মো. মহব্বত খান বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই পক্ষের দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।