শেফাইল উদ্দিন ,কক্সবাজার
আদরের কন্যার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আনন্দটা আর দেখে যেতে পারলেন না কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ের বিশিষ্ট শিল্পউদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক মনজুরুল হক চৌধুরী। কন্যা যখন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে, ঠিক সেই আনন্দের দিনে পাশে নেই প্রিয় বাবা। ফল প্রকাশের দিনই অনুষ্ঠিত হয়েছে সদ্য প্রয়াত মনজুরুল হক চৌধুরীর কুলখানি।মরহুম মনজুরুল হক চৌধুরী ঈদগাঁও ইউনিয়নের উত্তর মাইজপাড়া এলাকার মরহুম ছৈয়দুল করিম চৌধুরীর সন্তান। মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে পর্যন্তও তিনি ছিলেন পরিবারের সদস্যদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী। কিন্তু মেয়ের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের সাক্ষী হয়ে যেতে পারেননি তিনি।তারই কন্যা তাপসি হক রিমছি চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থী রিমছির এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ।ফলাফল প্রকাশের কয়েকদিন আগে পিতা মনজুরুল হক চৌধুরী ইন্তেকাল করায় মেয়েটির দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ফলাফল দেখার মুহূর্তে সবচেয়ে কাছের মানুষটিই পাশে ছিলেন না। যে বাবার উৎসাহ, ভালোবাসা ও দিকনির্দেশনা তাকে পথ চলতে সাহস জুগিয়েছে, সেই বাবার সঙ্গে নিজের কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগটুকুও হলো না তার।পরিবার ও স্থানীয়দের মতে, রিমছির এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে তার মা-বাবার অনুপ্রেরণা, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং তার নিজের নিরলস পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে সাফল্যের এই দিনে বাবাকে হারানোর শূন্যতা কোনো অর্জন দিয়েই পূরণ হওয়ার নয়।একদিকে কন্যার গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনের আনন্দ, অন্যদিকে প্রিয় বাবার মৃত্যুতে গভীর শোক—ঈদগাঁওয়ের এই পরিবারের কাছে এবারের এসএসসির ফলাফল তাই আনন্দ-বেদনার এক মিশ্র স্মৃতি হয়ে রইল।স্থানীয়রা কৃতী শিক্ষার্থী তাপসি হক রিমছির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন এবং মরহুম মনজুরুল হক চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।