বাঙ্গরা বাজার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন ৪নং পূর্ব ধইর পূর্ব ইউনিয়নের কুরবানপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও সীমানা মাপজোখকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় পিতা ও পুত্র গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। হামলায় বৃদ্ধ পিতা মোঃ নাজমুল হাসান (৬৫) ও তাঁর পুত্র নুর-ই- আলম শাহরিয়া (৩২) আশঙ্কাজনকভাবে আহত হন।
এর মধ্যে চোখের নিচে ধারালো দায়ের কোপে গুরুতর আহত নুর-ই-আলম শাহরিয়াকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
অদ্য ১০ই আগস্ট ২০২৬ (সোমবার) বিকেল আনুমানিক ৪:৩০ ঘটিকায় কুরবানপুর গ্রামের বাদীর বসতবাড়ির সামনের রাস্তার দক্ষিণ পাশের নিজ জমিতে এই নৃশংস হামলার ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ নাজমুল হাসান (জাতীয় পরিচয়পত্র নং- ১৯১৮১৭৬৫৪৪৫৮৫) বাদী হয়ে একই এলাকার মোঃ রব্বান ভূইয়া (৫২), মোঃ মোবারক হোসেন ভূইয়া (৫৬) ও মোছাঃ পান্না বেগম (৪৫)-সহ অজ্ঞাতনামা বিবাদীদের বিরুদ্ধে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণ ও নেপথ্য কারণ:
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নাজমুল হাসান তাঁর বসতবাড়ির পাশে রাস্তার দক্ষিণ দিকের নিজস্ব জমি সম্প্রতি মাটি দ্বারা ভরাট করেন। ঘটনার দিন বিকেলে তিনি তাঁর পুত্র ১নং সাক্ষী নুর-ই-আলম শাহরিয়াকে সাথে নিয়ে উক্ত ভরাটকৃত জমির সীমানা মাপজোখ করছিলেন। এ সময় ১নং বিবাদী রব্বান ভূইয়া ও ২নং বিবাদী মোবারক হোসেন ভূইয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জমি মাপজোখে বেআইনিভাবে বাধা সৃষ্টি করে। তারা দাবি করে, নাজমুল হাসানের ভাই মোঃ কামরুল হাসানের কাছ থেকে তারা ৬ শতক জমি ক্রয় করেছে। তবে নাজমুল হাসান ও তাঁর পুত্র জানান, তাঁর ভাই উক্ত স্থানে সর্বোচ্চ ৪ শতক জমির মালিক, ফলে ৬ শতক দাবি করার বিষয়টি সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ৩নং বিবাদী পান্না বেগম নিজ বাড়ি থেকে একটি ধারালো দা, লোহার সাবল ও বাঁশের লাঠি এনে ১ ও ২নং বিবাদীর হাতে তুলে দেয়। অস্ত্র হাতে পেয়ে রব্বান ভূইয়া ও মোবারক ভূইয়া অতর্কিতে হামলা চালিয়ে নুর-ই-আলম শাহরিয়ার সমস্ত শরীরে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর নীলাফোলা ও রক্তজমাট জখম করে।
হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও নৃশংসতা:
একপর্যায়ে ১নং সাক্ষী নুর-ই-আলম শাহরিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ১নং বিবাদী রব্বান ভূইয়া তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো দা দিয়ে মাথায় কোপ মারে। কোপটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে নুর-ই-আলমের ডান চোখের ঠিক নিচে লাগে, যার ফলে তাঁর মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে কেটে গিয়ে প্রভূত রক্তক্ষরণ শুরু হয় (উক্ত কাটার স্থানে চিকিৎসকরা ৪টি সেলাই প্রদান করেন)।
একই সাথে ২নং বিবাদী মোবারক হোসেন ভূইয়া হাতে থাকা ভারী লোহার সাবল দিয়ে নুর-ই-আলমের মাথা লক্ষ্য করে সজোরে আঘাত করলে তিনি তা হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে আঘাতটি তাঁর বাম হাতের মধ্যম আঙুলে লেগে হাড়গোড় চূর্ণবিচূর্ণ ও গুরুতর জখম হয়।
পাশাপাশি ৩নং বিবাদী পান্না বেগম বাঁশের লাঠি দিয়ে বৃদ্ধ নাজমুল হাসানকে বেধড়ক পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর নীলাফোলা জখম করে। হামলাকারীরা একপর্যায়ে নুর-ই-আলমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে বলেও
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্ধার, চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা:
ভুক্তভোগীদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে আশপাশের লোকজন ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ গোলাম হোসেন, আলম মিয়া ও মোঃ বাছির মিয়াসহ অন্যান্য প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা পিছু হটে। স্থানীয়রা আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী কসবা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।
সেখানে নুর-ই-আলমের চোখের জখম অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও জটিল হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। অন্যদিকে বৃদ্ধ নাজমুল হাসান স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
হুমকি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ:
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার ঘটনার পর থেকে বিবাদীরা সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিলে খুন-খারাপিসহ বড় ধরনের ক্ষতি করার প্রকাশ্য হুমকি প্রদান করে আসছে। আহতদের জরুরি চিকিৎসা প্রদান ও স্থানীয়দের বিষয়টি অবহিত করার কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার চিকিৎসার কাগজপত্র (মেডিকেল স্লিপ) সংযুক্ত করে প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাঙ্গরা বাজার থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।