মোঃ আলাউদ্দিন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ বাজারে ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণ ও ক্যাশলেস ব্যাংকিং সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র চন্দ্রগঞ্জ উপ-শাখার উদ্যোগে ‘ক্যাশলেস কার্যক্রম’ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ‘এক দেশ, এক কিউআর’ (Bangla QR) ধারণাকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র নোয়াখালী আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র চন্দ্রগঞ্জ উপ-শাখার শাখা প্রধান মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র চৌমুহনী শাখার শাখা প্রধান স্বপ্না দাস চৌধুরী।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলাইয়াপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন খাঁন, লক্ষ্মীপুর জেলা বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সভাপতি সমীর কর্মকার, চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এনায়েত উল্যা, চন্দ্রগঞ্জ একতা সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ, চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর নুর এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।এ ছাড়া চন্দ্রগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী, পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আধুনিক, সহজ ও নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। নগদ অর্থের পরিবর্তে Bangla QR, পয়েন্ট অব সেল (POS), ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড ও অ্যাপভিত্তিক লেনদেনের মাধ্যমে দ্রুত ও নিরাপদে আর্থিক লেনদেন করা সম্ভব। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের ক্যাশলেস লেনদেনে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে।বক্তারা আরও বলেন, ‘এক দেশ, এক কিউআর’ বা Bangla QR ব্যবস্থার প্রসার ঘটলে ছোট-বড় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সহজেই ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসতে পারবেন। একটি আধুনিক ক্যাশলেস সমাজ গড়ে তুলতে ব্যাংক, ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।অনুষ্ঠান শেষে ডিজিটাল লেনদেন ও ক্যাশলেস ব্যাংকিং সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি চন্দ্রগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।[10/08, 6:17 pm] +880 1756-016078: ১১ শিক্ষকের ১১ পরীক্ষার্থী, পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থীর নামই জানেন না প্রধান শিক্ষকপিরোজপুরের নেছারাবাদের মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। অথচ বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন ১১ জন শিক্ষক। এমন ফলাফলে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। গত বছরও বিদ্যালয়টির ফলাফল ছিল প্রায় একই। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আটজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছিলেন মাত্র একজন।স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকে পাঁচ-ছয়জনের বেশি নয়। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি এক যুগের বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময়েও বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।বিদ্যালয় অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক, একজন ক্লার্ক ও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৩ জন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারকে প্রতি মাসে তিন লাখ টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়।স্থানীয়দের প্রশ্ন, ১১ জন শিক্ষক থাকার পরও ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন কেন পাস করলেন? শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আনা, পড়াশোনায় আগ্রহী করা এবং মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার—এ প্রশ্নও তুলেছেন তারা।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, চলতি বছর ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পাস করেছে। গত বছর আটজন পরীক্ষা দিয়ে একজন পাস করেছিল।পাস করা শিক্ষার্থীর নাম ও ফলাফল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন মনে নেই, পরে জানাব।’১১ জন শিক্ষক থাকার পরও এমন ফলাফলে তিনি দুঃখিত কি না জানতে চাইলে পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, ‘দুঃখ কিসের। শিক্ষার্থীদের চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যাচ্ছে না। তারা ঠিকমতো না পড়লে আমাদের দোষ কী?’স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত করা ও পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদেরও। দীর্ঘদিনের এই দুরবস্থার কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদানের মান এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।শুভ সমদ্দারস্টাফ রিপোটার ( পিরোজপুর )