সিলেট ব্যুরো ::
সিলেট নগরীর শাহপরান থানাধীন খাদিম এলাকায় নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও ভাগবাটোয়ারার দ্বন্দ্বকে আড়াল করে বিএনপির নাম ব্যবহার করে ‘মারামারি’র নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে শাহরিয়ার ইমনের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং নিজেকে ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।স্থানীয় সূত্রের দাবি, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ও অভিযোগের মাধ্যমে ইমন দাবি করেন মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তবে তিনি যে স্থানের কথা উল্লেখ করেছেন, সেখানে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে—এমন প্রত্যক্ষ তথ্য বা স্থানীয়দের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি খাদিমের আল-বারাকা আবাসিক এলাকার অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটে থাকতে পারে। কিন্তু সেই বিরোধকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে মীরমহল্লার নাম ব্যবহার করে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে বিএনপির নাম ব্যবহার এবং দলীয় পরিচয় কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি চারজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দেওয়ার পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলা রেকর্ড এবং একজনকে আটক করানোর অভিযোগও উঠেছে।এদিকে শাহরিয়ার ইমনের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি,২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। তার বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।স্থানীয় সূত্র আরও দাবি করছে, বর্তমানে শাহপরান-খাদিম এলাকায় সীমান্তপথে আসা বিভিন্ন ভারতীয় পণ্যের অবৈধ বেচাকেনার সঙ্গে ইমনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষেও কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে হামলার শিকার হওয়ার দাবি করলেও কথিত হামলার স্থান, সময় ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে নানা প্রশ্ন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যটি নিছক রাজনৈতিক সুবিধা আদায়, প্রভাব বিস্তার কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার কৌশল কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিএলাকাবাসীর আহ্বান, কোনো পক্ষের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর না করে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য দিয়ে কাউকে হয়রানি বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলা ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহরিয়ার ইমনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।