নিজস্ব প্রতিবেদক আনিছুরজ্জামান খোকন
রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ যেন শেষ হওয়ার নয়। বছরের পর বছর ধরে গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়কটি পড়ে আছে কাঁচা অবস্থায়। বর্ষা এলেই সড়কজুড়ে কাদা-পানি, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে জনজীবন। দীর্ঘদিন ধরে পাকা সড়কের দাবি জানিয়ে এলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি কার্যকর কোনো উদ্যোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কল্যাণপুর গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ উপজেলা সদরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদায় পরিণত হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও তৈরি হয় বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। ফলে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে কাদা মাড়িয়ে শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী ও বয়স্কদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
শিক্ষার্থী ও কৃষকদের ভোগান্তি চরমে
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কৃষকদের। বৃষ্টির দিনে কাদায় পা পিছলে পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পোশাক নষ্ট হওয়া ও সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে না পারার ঘটনাও ঘটছে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা সড়কের দুরবস্থার কারণে বিদ্যালয়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করে বলে জানান স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, কৃষকদের জন্যও সড়কটি বড় ধরনের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঠ থেকে উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে গিয়ে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। কাঁচা ও কর্দমাক্ত সড়কে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় অনেক কৃষককে বাধ্য হয়ে মাথায় বা ভ্যানে করে পণ্য বহন করতে হয়। এতে উৎপাদন খরচের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
জরুরি রোগী পরিবহনেও বড় বাধা
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী বা মুমূর্ষু রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়। কাদামাটির সড়কের কারণে অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন সহজে প্রবেশ করতে না পারায় জরুরি সময়ে রোগী পরিবহন নিয়ে চরম সংকটে পড়তে হয়।
বাসিন্দারা বলেন, একটি উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা শুধু মানুষের চলাচলের সুবিধাই নিশ্চিত করে না; শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। অথচ কল্যাণপুর গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সেই মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
প্রতিশ্রুতি আসে, বাস্তবায়ন আসে না
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি পাকাকরণের জন্য জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন ও দাবি জানানো হয়েছে। বিভিন্ন সময় রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের আশ্বাসও মিলেছে। কিন্তু বাস্তবে স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। ফলে প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি এলেও বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন,আর কত বছর কাদা-মাটির সড়কে চলাচল করতে হবে?
তাদের দাবি, বিষয়টি আর শুধু যোগাযোগ সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন গ্রামবাসীর শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত। তাই দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে সড়কটির প্রয়োজনীয়তা যাচাই এবং যথাযথ প্রকল্পের মাধ্যমে পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটাবে। কাদা-মাটির সড়ক নয়,তারা চান নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা।