মোঃ বজলুর রহমান,
মায়ের সঙ্গে অভিমান করে রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছিল ১৬ বছরের কিশোর শিহাব। পরদিন সকালে মানিকগঞ্জ জাগীর ব্রিজসংলগ্ন শহীদ মিনারে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা।নিহত সিহাব মানিকগঞ্জ পৌরসভার হিজুলী গ্রামের সেলিম হোসেনের ছেলে। জীবিকার তাগিদে সে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের মাছবাজারে মনির হোসেনের মাছের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করত।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে নৌকা ভ্রমণে যাওয়ার জন্য মায়ের কাছে টাকা চেয়েছিল সিহাব। তবে মা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় অভিমান করে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। রাত গভীর হলেও সিহাব বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। স্বজনরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানসহ পরিচিতজনদের কাছে খোঁজখবর নিলেও তার কোনো সন্ধান পাননি।এরপর রোববার সকালে জাগীর ব্রিজসংলগ্ন শহীদ মিনারে সিহাবের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় জমে যায়। পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কিশোরটি কীভাবে শহীদ মিনার এলাকায় গেল, সেখানে তার সঙ্গে কারও দেখা হয়েছিল কি না কিংবা মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই কিশোর সিহাবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।এদিকে কিছু আলেমগণ অভিমানের সুরে বলেন, শিহাব মানে আগুনের ফুলকি বা শিখা । আল্লাহর রাসূল এ নাম রাখা নিষেধ করেছেন । বাবা-মায়ের সাথে অভিমান করে এমন কান্ড কখনোই মেনে নেয়া যায়না ।