সালাউদ্দীন শাহিন,বাঘাইছড়ি(রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে “রুপালি মৎস্য, স্বনির্ভর দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপিত হয়েছে।রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের যৌথ আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপজেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে ব্যানার-ফেস্টুনসহ একটি বর্ণাঢ্য সড়ক র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে কাচালং নদীর তীরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন অতিথিরা। পোনা অবমুক্তির মাধ্যমে জলজসম্পদ রক্ষা ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির বার্তা দেওয়া হয়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য দেব প্রসাদ দেওয়ান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন (বাবু), উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল আলম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা কবির আহাম্মদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর আলম, বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ নাছির উদ্দিন মজুমদার, বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংবাদকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।বাঘাইছড়ি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জয়াস চাকমা-এর সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা মৎস্য (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা নব আলো চাকমা। সফল মৎস্য চাষিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মো. ইউসুফ নবী ও ইউপি চেয়ারম্যান বিল্টু চাকমা এবং বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আব্দুল মাবুদ।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। নদী, হাওর-বাঁওড়, খাল-বিল ও উপকূলীয় জলাশয়ের মৎস্য সম্পদ দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জীবনধার অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের মোট প্রাণিজ আমিষের একটি বড় অংশ আসে মাছ থেকে। পাশাপাশি মাছ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত।বক্তারা আরও বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, নদ-নদী ও জলাশয় ভরাট, পানিদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশীয় মাছের বিভিন্ন প্রজাতি আজ হুমকির মুখে পড়েছে। একসময় সহজলভ্য অনেক দেশীয় মাছ বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে। এমন পরিস্থিতিতে এবারের স্লোগান“অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি”অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ।তারা বলেন, মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা শুধু মাছের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ নয়; এর মাধ্যমে জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।আলোচনা সভা শেষে বাঘাইছড়ি উপজেলার তিনজন সফল মৎস্য চাষির হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা।